উত্তরণের জন্য: A Session With Aratrick Bhadra

Aratrick Bhadra is a young talented kid, who is working with the aim of taking an assured place in the multifaceted arena of Bengali Theatre. His group, Udbhab, is coming to the stage on 2nd August with অবতরণ at Tapan Theatre.

Here’s what he has to say:

KMDB: এই নাটকটির সামাজিক প্রয়োজনীয়তা

Aratrick: অবতরণ নাটকটি গোড়া থেকেই সমাজের কথা বলে।নানান ধরণের মানুষের নানান সমস্যা, তাদের দুঃখের কথা রয়েছে এই নাটকে , যার সাথে অনেকেই রিলেট করতে পারবেন।নাটক টির মধ্যে দিয়ে সেই সমস্যা গুলোর থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এবং কি করে তার সমাধান করা যায়, সেই কথাই বলার চেষ্টা করেছি, সেখানেই এর গুরুত্ব।

KMDB: উদ্ভব নিয়ে কিছু কথা

Aratrick: উদ্ভব নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছিল দুবছর আগে। সবাই আমরা ছিলাম এগারো শ্রেণীর ছাত্র, যখন হঠাৎ ই একদিন একটা নাটক করার ইচ্ছা হল। ফেসবুক এ বিজ্ঞাপন, বন্ধুদের মধ্যে খোঁজ নিয়ে কুশীলব ও জোগাড় হলো। আমরা সফল ভাবে আমাদের প্রথম নাটকের দুটি শো মঞ্চস্থ করলাম। এবার একটা দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছি। তবে উদ্ভবের উদ্দেশ্য বলত হলে বলবো, আমাদের সময়ের অনেকেই বাংলা বলতে লজ্জা পান, বাংলায় কথা বলতে লজ্জা পান, আর বাংলা থিয়েটার এর কথা তো ছেড়েই দিলাম, তাই উদ্ভব চায় বাংলা নাটকের মধ্যে দিয়ে ভাষাটার চর্চা করা, সুন্দর বার্তা দেওয়া সমাজ কে। আমাদের অনুপ্রেরণা দুজন, রমাপ্রসাদ বণিক এবং সত্যজিৎ রায়। রবীন্দ্রনাথও উদ্ভবের মধ্যে সর্বদা বিরাজ করেন।

KMDB: নাটক কি এখনো সংগ্রামের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়?

Aratrick: আমি সবসময় একটা কথা বলি, যে শিল্পের শুরু হয় গ্রীসে ,থেসপিস এর দ্বারা, একটি প্রতিবাদের জন্যে, তা আর যাই হোক শুধু মনোরঞ্জন এর জন্য নয়। নাটক বলে কথা নয়, যেকোনো সংগ্রামের সময় শিল্প একটা প্রধান অস্ত্র। কেউ ছবি এঁকেছেন , কেউ বা গান লিখেছেন, কেউ লিখেছেন নাটক। চারিদিক এ সমাজ যে এত ঘৃণ্য খবর যে আমরা শুনতে পাই, তার জন্যে দায়ী মানুষের বিকৃত মন, আর সেই মনকে হয়তো বদলাতে পারে নাটক। সুচিন্তা জাগায়, সুন্দর ভাবনা জাগায়।অত্যাচার এবং অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষ কে চিরকাল জাগ্রত করেছে নাটক, এবং আমার বিশ্বাস ,আগামী দিনেও করবে।

KMDB: নাট্যকার না নির্দেশক? কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

Aratrick: এটা বলা ভারী শক্ত, কারণ নাটক না থাকলে নির্দেশক থাকবেন না, আর নির্দেশক না থাকলে নাটকটি বইয়ের পাতাতেই আবদ্ধ হয়ে থাকবে। শ্রীকৃষ্ণ এর জীবনে যেমন , দেবকী তার জন্মদাত্রী মা, এবং যশোদা তাক বড় করেন, তেমন নাটকটির জন্ম দেয় যেমন নাট্যকার, তেমনি তাকে জীবন দেন নির্দেশক, তাই দুজনেই সমান।

Advertisements

পুতুল নাচের ইতির কথা: A Session with Aniket Roy Karmakar

Aniket Roy Karmakar is presently directing the upcoming presentation of Bodnaam, titled পুতুল নাচের ইতির কথা. He is a multi-talented young lad, who has the aspiration to revolutionize theatre as an art form. Here’s what he said to us…

Aniket Roy Karmakar



KMDB: Tell us about পুতুল নাচের ইতির কথা, the earlier production of Bodnaam which is being carried forward in পুতুল নাচের ইতির কথা ২. Is this series adapted from Manik Bandyopadhyay?

Aniket: পুতুল নাচের ইতির কথা was Bodnaam’s first proscenium theatre outside college. It was based on an imaginary world which has become more like a machine, where people who deny to act like machines are stamped as defectives and held captive in the prison, kept in the surveillance of a group of people known as the SSS, The Secret Society Service, assigned by the society and the system itself. The hierarchy of the whole system is set by a concept called ‘status points’, a single currency that sets the  social status of an individual. Friends are considered to be ‘status point’ yielding machines, and thus a guild is formed to buy friends or to exchange certain business proposal meetings. A high class machine ‘Pratik’ is struggling in this society to gain more status, but his downfall seems to be inevitable. At this point he buys a friend ‘Suhrid’, who happens to be a ‘defect’ unknown to all. The ‘defect’ grows a friendly relationship with pratik’s daughter ‘Putul’, who wondered about the meaning of the name ‘Putul’. Suhrid promises to show her what it means, someday. Meanwhile Pratik comes to know that ‘Suhrid’ happens to be a ‘defect’ and asks him to immediately leave their society, or else he will be compelled to notify ‘The SSS’. Suhrid breaks down and assures he will leave. A month later a performance was set up in the town hall. Everyone was invited. Suhrid exposes the true nature of the society through his performance in the show with Putul. People, better called the machines, failed to synchronize with the concept. SSS caught Suhrid and Putul. Pratik, terrified, desperately tries to protect his daughter and realises that he too, has become “a defect” and discovers that being defective, is nothing wrong. He cries his heart out infront of the entire society and pleads to let go his daughter and promises to never come back in this society. SSS, take away the smiling, satisfied Suhrid! 

We faced this question oftentimes, ‘Is this series an adaptation of Manik Bandyopadhyay’s পুুতুল নাচের ইতি কথা or not?’ Well to be specific, it is not an adaptation, but you may find the situation in which the storyline of this production have been plotted similar to the maestro’s novel. 

KMDB: Tell us about the play which will be staged on the 6th. What made you come up with this production now.

Aniket: The upcoming ‘পুতুল নাচের ইতি কথা’ is a sequel to the previous one, where Suhrid is leading a rebellion of defects against machine like humans and the system. The makers of this new world want to capture Suhrid as soon as possible to stop this rebellion, because they know freedom is the price one must pay to avoid war between countries, and emotions are the reason behind humankind’s sufferings.
The prequel of our upcoming production was based on an imaginary world where people preferred to be machines more than human. One day one of my friends and I were discussing that people of our generation doesn’t value friendship the way it should be. To them it is only an excuse to get help from each other for their own benefit. People have become more machine than men.

A long time after the previous পুতুল নাচের ইতির কথা, it suddenly came to my mind ‘why would someone make such a system? There must be a good reason’. 



KMDB: Bodnaam is a name known both in the streets and on the stage. What do you feel about the change in paradigm of theatre, which occurs when one perceives the street to be the stage?

Aniket: Street theatre and stage theatre have vast differences between them. Street theatre is an open artform, with no restrictions on the audience about where they might stand, what they might do, which class they belong to. It’s absolutely a surprise to the audience, so the performance should be easy to understand to be perceived by all from age of 8 to 80. Focusing on social and political issues, a stage theatre is an artform for selective audience and vast range of topic to be performed.

KMDB: What are your views about adaptations? Do you cater more to created narratives or towards creating new narratives from the scratch?

Aniket: To me, adaptation is a point of view about a specific piece of art, how one perceives it, how well one can imagine out of the box while staying inside a box, something like Schrödinger’s cat.
To me both adaptation and new narratives have it’s own beauty. The previous year I wrote and directed a play ‘আসছি বন্ধু’, an adaptation of O. Henry’s ‘Last Leaf’, and I thoroughly enjoyed that, about as much as I am enjoying my upcoming production which is an original script.

KMDB: They say that Theatre and Films are inseparably related. What are your views on the same?

Aniket: To me, theatre and films have a huge difference between them, but they are inseparable also. A film needs a script writer, director, actors, music director, light technician, makeup man, set designer etc., just the same as a theatre production. The other reason I think they are inseparable because these artforms focus on life and can frame it like no other artform.

Interview Conducted and Blog Updated by Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

গুলশন: A Session with তপন কুমার রায়

Tapan Kumar Ray is the director of the upcoming production of নাট্য-স্রোত, গুলশন, which will be staged next on 29th April 2017 at Tapan Theatre. Here’s what he has to say about Theatre and this particular production.


তপন কুমার রায়


KMDB: নাট্য-স্রোত দলের সম্মন্ধে আমাদের যদি কিছু বলেন।

তপন কুমার রায়: 2014 সালে, প্রতি বছরের মতো পূজোয় EE ব্লকের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে আমরা একটি নাটক করি। ডঃ তাপস দাস এর লেখা – আবর্ত। নাটকটি প্রবল সারা পায়। নাটকের শেষে বহু মানুষ এসে দেখা করেন, সবার খুব প্রশংসা কুড়ায়। এরপর আমার কাছে যারা ছোট থেকে অভিনয় শিখেছে এবং আবর্তর অভিনেতা শুভজিৎ ,স্বাগতা এবং তনয় এসে আমাকে একটি প্রস্তাব দেয়। বছরে একটা নাটক না করে এই কাজটা সারাবছর ওরা করতে চায়। শুরু হলো যাত্রা। ৩ জন নিয়ে দল শুরু করে আজ আমরা 20 জন একসাথে লড়ছি। প্রফেশনাল মঞ্চে আমরা প্রথম কাজ করি 2016 সালে শিশির মঞ্চে। এরপর আমাদের বড় সুযোগ করে দেয় মরমিয়া। সাগ্নিক চ্যাটার্জীর হাত ধরে আমরা সুযোগ পাই তপন থিয়েটারে। ওয়ার্ল্ড থিয়েটার ডে তে আমরা পারফর্ম করি গুলশন। দারুন সারা পাই দর্শক এর কাছে। এরপর বিভিন্ন কলকাতা এবং কলকাতার বাইরেও আমরা কাজ করার সুযোগ পাই। লাস্ট ইয়ার EZCC থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল, অর্থাৎ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট যে থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল করেছিল, সেখানেও আমরা সিলেক্টেড হয়েছিলাম। আমাদের কলকাতায় আগামী শো 29-এ এপ্রিল, মরমিয়া থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে, তপন থিয়েটারে এবং ৭ই মে রাসবিহারী মুক্তাঙ্গনে।

KMDB: আপনার সাথে নাটকের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নাটক বা নাটক নির্মাণের সাথে আপনার এই সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের যদি ব্যাখ্যা করেন।

তপন কুমার রায়: আমি দীর্ঘ 30 বছর থিয়েটার এর সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কখনো অভিনেতা আবার কখনো নির্দেশক এর দায়িত্ব সামলেছি। আমার কাছে শিল্প সাধনা। আমি মনে করি ,পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি যে কোনো রকম শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা দরকার, তার মানসিক বিকাশের জন্যে। একজন থিয়েটার কর্মী হয়ে আমি মনে করি জীবনে এগিয়ে চলার প্রত্যেকটা পদক্ষেপের সাথে থিয়েটার জড়িয়ে। তাই এই সাধনা আজীবনকাল করে আসবো।

KMDB: গুলশন নাটকটি সম্মন্ধে কিছু বলুন।

তপন কুমার রায়: গুলশন আমাদের চারিদিকের কথা বলে। আজও সমাজে জাতি ধর্ম নিয়ে যে বিদ্বেষ সেটাকেই হাসির মোড়কে মঞ্চে তোলা হয়েছে। আজ ও হিন্দু কোনো ছেলে মুসলিম মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করলে সমাজের নিয়মে তাদের আলাদা হয়ে যেতে হয়। সেটাই নাটকে দেখা যাবে।

KMDB: গুলশন নির্দেশনা করা বা মঞ্চে আনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি? 

তপন কুমার রায়: গুলশন করার পিছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমার কাছে এই ধরণের ঘটনা খুব ধাক্কা দেয়, আর একজন নাট্যকর্মীর মনের কথা বলার জন্যে সে মঞ্চকেই বেঁছে নেয়। আমিও তাই করেছি। এ ছাড়াও নাটকটি পুরোনো এবং বেশ জনপ্ৰিয়। বহু দল কাজ করেছে এই নাটকটি নিয়ে, তাই আমি চেষ্টা করেছি আমার মতো করে সাজিয়ে মঞ্চস্থ করার।
KMDB: ২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে group theatre-এর কতটা গুরুত্ব বা মাহাত্ম আছে বলে মনে হয়?

তপন কুমার রায়: বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছি, বহু young ছেলেমেয়ে থিয়েটার করতে আসছে। আমাদের দলেও এসেছে। এবং বিভিন্ন বন্ধু দলেও কাজ করছে young ছেলেমেয়েরা। আমার মনে হয় বিগত কয়েক বছরে বাংলা থিয়েটার তার পুরোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে, মাঝে যেটা বেশ কমে গেছিলো। এখন নাম করা দল গুলোর পাশাপাশি বহু নতুন দল বেশ সারা জাগানো কাজ করছে। সব জেনারেশন এভাবে হাতে হাত ধরে কাজ করে গেলে বহু মানুষ হল মুখী হবে এবং বাংলা থিয়েটার এর রমরমা হবে।

KMDB: থিয়েটার এবং সিনেমার মধ্যে কি কোন সাদৃশ্য আছে? যদি একটু ব্যাখ্যা করেন।

তপন কুমার রায়: থিয়েটার আর সিনেমার মিল আছে কিনা বলার চেয়ে যেটা অতি গুরুত্বপূর্ণ, দু-জায়গা তেই অভিনয়টা করতে হয়। সিনেমায় ভুল করলে ঠিক করার সুযোগ থাকে কিন্তু মঞ্চে এক Take-এ সবটা করতে হয়। তাই আমার মনে হয় একজন নাট্যকর্মীর কাজ কিছুটা হলেও কঠিন। এবং একজন চলচিত্র অভিনেতা যখন থিয়েটার থেকে সিনেমায় যায়, তখন তার পক্ষে এবং পরিচালক এর পক্ষে পরস্পরকে deal করা সুবিধা হবে।

Interview Conducted and Blog Edited by Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

Blog Transliterated by Anurupa Sen (Finance Manager, KMDB)

Take Care: A Session with Sayan Chanda

Sayan Chanda is a new face in the wide arena of Independent Filmmakers working in and around Kolkata. His upcoming film, Take Care, will release online on 14th April. Here is what he had to say about himself and the film which will be available for you to watch soon…

Sayan Chanda

KMDB: তোমার সাথে Cinema-র সম্পর্ক নিয়ে যদি কিছু বল। Take Care অবধি তোমার যে সফর, তা নিয়ে বিস্তারে বল।

সায়ন: ছোটো থেকেই খেলাধুলা আর পড়ার বই এর থেকে বেশি সময় কাটিয়েছি সিনেমার সাথে। জীবনের প্রথম প্রেম সিনেমা, তাই বাকি জীবনটাও এক সাথে কাটাবো বলে ঠিক করলাম। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত করাটা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কিন্তু এটুকু বলতেই হবে যে আমার আশেপাশের কিছু মানুষ আমাকে এই বিষয় আনেক সাহায্য করেছে। আর Take Care বানাবো এটা আমি shooting-এর এক মাস আগেও ভাবিনি।  রজত দা ( রজত সাহা Take Care-এর সম্পাদক এবং সৃজনশীল পরিচালক) যদি পাশে না থাকতো, তাহলে Take Care বানানোর কথা ভাবতেও পারতাম না। আরেকজনের কথা বলতেই হবে। আমাদের প্রযোজক সৌম্য চক্রবর্তী। উনি পাশে না থাকলেই এই ছবিটাই হয়েত তৈরি হত না।

KMDB: Take Care সম্মন্ধে কিছু বল। এই গল্প বা narrative-টা নিয়ে ছবি বানানোর বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

সায়ন: আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহুর্ত আসে যখন আমাদের ভালোবাসার মানুষটার থেকে আমাদের দূরে সরে যেতে হয়, কখনো কখনো তাদেরই ভালোর জন্য। কিন্তু আমরা কী সত্যি সেই সম্পর্কের সব আবেগ কাটিয়ে ফেলতে পাড়ি?  আমার মনে হয়েনা সেটা সব সময়ে সম্ভব হয়ে। সম্পর্ক শেষ হলেও, কথা গুলো শেষ হয়না। এমনই এক ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের গল্প নিয়ে Take Care.

KMDB: ছবি নির্মাণের সময় এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে যা কখনো ভুলতে চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবে না? যদি না ঘটে, তাহলে ছবি নির্মাণের সময় কিছু মজার ঘটনার কথা যদি বলো। 

সায়ন: প্রশ্ন শুনে একটা ঘটনা মনে পরে গেলো। ছবির অন্যতম অভিনেত্রী শ্রেয়ার, যে তানিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছে, শুটিং চলাকালীন কোনো একটা কারণে চোখে ইনফেকশন হয়ে যায়। আমরা সবাই ভয়ে পেয়ে গেছিলাম প্রায় যে ওর পক্ষে আর সম্ভব হবে না শুট করার, কিন্তু ও সেই অবস্থায় শুটিং করেছে।

KMDB: এই ছবির মূল অভিনেতা ও অভিনেত্রী-দের ব্যাপারে আমাদের যদি কিছু বলো।

সায়ন: ছবিতে মোট চারটে চরিত্র রয়েছে। ঈশান, রেহানা, কাবীর এবং তানিয়া। ঈশানের ভূমিকায় আংশু অভিনয় করেছে, রেহানার ভূমিকায় লহরী, কাবীরের ভূমিকায় আকাশ এবং তানিয়ার চরিত্রটি করেছে শ্রেয়া। 

KMDB: একটি Award বা Accolade একটি ছবির বা তার নির্দেশকের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। তুমি কি মূলত Festival-এর জন্যই ছবি বানাও বা বানাতে চাও?

সায়ন: Award বা Accolade একটি ছবি এবং তার নির্দেশকের জন্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয়….কিন্তু আমার মনে হয় Award এর থেকে বেশি Accolade টা প্রয়োজন কারণ শুধু একটা Award একটা ছবির পরিচয় হতে পারে না। যেটা সবার প্রথম দরকার সেটা প্রশংসা।

আর আমি আলাদা করে Festival-এর জন্য ছবি বানাতে পারবোনা কারণ সেই ফর্মুলা আমার জানা নেই। আমি ছবি বানাতে চাই সকল দর্শকের জন্যে, তাদের ভালো লাগাটাই আমার কাছে বড় Award।

KMDB: Take Care- এর পরে তুমি আমাদের কি উপহার দিতে চলেছো?

সায়ন: Romance টা ঠিক কাটিয়ে উঠতে পারছিনা। তাই এরপরেও আরেকটা ভালোবাসার গল্প বলব বলে ভেবেছি, কিন্তু সেটা একেবারেই অন্যধরনের গল্প। তা সেটা নিয়ে এখন আর বেশি কিছু বলবো না। আগে Take Care দর্শকের মনে যায়গা করুক তারপর না হয়……

KMDB: এখন অনেক নতুন ছেলেমেয়ে Independent Sector-এ কাজ করছে এবং সফলতা অর্জন করছে। তারা আরো বড় হতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্যে তোমার Advice কি হবে? তাদের কোন পথে এগোনো উচিত?

সায়ন: এই প্রশ্নের উত্তরের সন্ধান তো আমি নিজেই করছি। আমি এর উত্তর কি ভাবে দেব?  Advice দেবার মতো যায়গাটা অর্জন করি তারপর না হয়ে ভেবে দেখব প্রশ্নটা!  

Interview Conducted and Blog Edited by Abhirup Sen

The Artscape Diary: A Road to the Triagon

On 25th August 2016, we were witness to a celebration full of grandeur and glee, as Studio15 celebrated their Third Birth Anniversary at The Doodle Room. The event, titled Artscape v1.2.3, showcased various forms of art and filled our conscience with a sense of artistic richness.

We watched a number of short films, directed by talented independent filmmakers from all over Bengal. A number of posters and trailers of upcoming independent ventures were also unveiled during the event. Various talented musicians from Bengal performed in Artscape v1.2.3, and each of them were powerhouses of talent. We were also introduced to the upcoming production of Bodnaam, and the video advertisement of HipSnip, a group of electro-hip-hop performers.

We thank the entire team of Studio15 for inviting us to this grand gala event in the heart of our city. It was an honour to be a part of Artscape v1.2.3.

On 27th March 2017, team Studio15 will return with another grand celebration of art. Triagon Fest Season 1 will be a one of a kind event, and Artscape v1.2.3 was a precedent to this upcoming festival.

Don’t miss Triagon Fest Season 1 on 27th March 2017 at Gyan Manch. Event begins at 5pm sharp.

Photographs: Utsaleena Das (Deputy Editor, KMDB) and Abhirup Sen 


Edits and Write-up: Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

অনাবিল: An afternoon with Arna Mukhopadhyay (পর্ব ১)

Arna Mukhopadhyay needs no introduction. He is one of those theatre personalities, whose perception of narratives, as a director, are unprecedented and exemplary. His performances, as an actor, are unparalleled. Some of the notable presentations with which he is associated, both as an actor and a director are অথৈ, Caesar ও Cleopatra and শেষরক্ষা. All of these are productions of নটধা, his very own Theatre Group with which he is attached from his childhood. He has also worked as a director as well as an actor for numerous other presentations. He spent a whole afternoon with us, talking about theatre, life, and much more. Here’s the first episode of the session. 


Arna Mukhopadhyay


KMDB: প্রথমে, নটধায় নির্দেশক হিসেবে তোমার journey-টা নিয়ে যদি আমাদের কিছু বলো।

অর্ণ: দেখ ,প্রথমত তো থিয়েটার করতে আসা তো শুধু নির্দেশনা দেবো এই জন্যে নয়। মানে, ধরো এটা আমার বাবার দল, ফলে রিহার্সাল যখন হতো তখন আসতাম বাবা মায়ের হাত ধরে। এবং সবটা যে খুব আমার ভালো লাগতো এমনটা নয়। থিয়েটার যে খুব মজার জিনিস, আনন্দের জিনিস তা কখনো কখনো মনে হয়েছে। এবং দলের বিভিন্ন নাটকের প্রয়োজনে শিশু অভিনেতা হিসেবে বা, একটু বড় হয়ে যখন আমি কৈশোরে পড়লাম, তখন প্রয়োজনে কিছু কিছু অভিনয় আমি করেছি। অভিনয় বলবো না, আমাকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবং আমার সেই অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে একটা অভিজ্ঞতা। তারপর প্রথমে আমি ভেবেছিলাম খেলোয়াড় হবো। তখন আমায় সেইটাই টানতো, মাঠ। আজও টানে, কিন্তু এখন তো আর খেলোয়াড় হওয়ার বয়স নেই। তখন ভাবিনি যে আদৌ সর্বক্ষণের থিয়েটার কর্মী বা অভিনেতা বা নির্দেশক হবো। কিন্তু যখন আমি ভাবছি খেলোয়াড় হবো, তার আগেই আমার প্রায় চার পাঁচটা থিয়েটারে অভিনয় করা হয়ে গেছে। যখন আমি মাধ্যমিক দিলাম, ক্লাস 10 পাশ করলাম, তখন আমার দলে একটা খুব বড় ক্যানভাসে, অনেক গুলো মানুষ নিয়ে বাবা একটা থিয়েটার করেছিল – মহাভারত। সেই মহাভারত আমার জীবনটা অনেক ক্ষেত্রে বদলে দিতে সাহায্য করেছে। বদলে যেতে, কারণ আমি মনে করি, যেরম বেঁচে থাকাটা একটা organic process, সেরম থিয়েটার বা অভিনয়ে ঢুকে পরাটাও একটা organic process। পিছনে কোথাও কিছু না কিছু চলে। এবং ওই ঘটনাটা যখন ঘটছে দলে, হাওড়া গার্লস স্কুলে বিভাস চক্রবর্তী রিহার্সালে আসতেন… মেঘনাদ ভট্টাচার্য, দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, সীমা মুখোপাধ্যায়, যাদের থিয়েটারের stalwarts বলা যেতে পারে, তারা আসছেন, তাদের দেখছি। হঠাৎ একদিন চলে গেলাম রিহার্সাল দেখতে। আমার ডিস্ট্রিক্ট এর খেলা ছিল, খেলা আগে শেষ হয়েছে, তাই খেলার পর গেছি রিহার্সাল দেখতে। গিয়ে দেখি প্রচুর লোক, আর স্বপ্নফেরি বলে একটা দল ছিল। আমার মনে আছে যে বড় সংখ্যায় একটা mass মানে একটা কোরাস এই নাটক টায় ছিল। আমার থিয়েটারেও যে mass বা কোরাস চলে আসে সেটা হয়তো, আমি পরে ভেবেছি, কারণ ওই দিনটা আমার subconcious-এ রয়ে গেছিলো। আমার অবচেতনে ছিল যে এত মানুষ, কিন্তু তারা কোনো চরিত্র না। তো সেই দিনটা আমার কাছে খুব স্মরণীয়। তারপর মহাভারত হলো। ওই প্রথম আমি জোর করে বললাম ওই নাটকে আমায় ঢুকতে দিতেই হবে। এবং তখন যারা ওই chorus পার্ট করছিলেন তাদের প্রচুর movement ছিল। NSD-র শিক্ষক পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সোহিনী সেনগুপ্ত ওই movement আর choreography-র দিক টা দেখেন। সেই ট্রেনিং তো আমি পাইনি তখন, তাই একটা দূত হয়ে একটা জায়গায় ঢুকতাম এবং ছোট্ট একটা জায়গায় বারবার ভুল করতাম। তো বিভাস চক্রবর্তী একদিন রিহার্সালে খুব রেগে গেছিলেন, যে এইসব কাকে ধরে এনেছ যাকে ঠেললে ঠিক করে পড়তে পারেনা। আমি ওইসময় খুব nervous ছিলাম, গোফ ঘেমে যেত আরকি। তো তখন বাকিরা বলেছিলেন ডিরেক্টরের ছেলে, এবং আমার খুব অপমান হয়েছিল। এগুলো খুব ছোট ছোট ঘটনা। তো তারপর মহাভারত হলো আর হওয়ার পর মনে হলো একটা বিরাট কিছু ঘটলো। এগুলো আসলে না বললেই নয়, part of the journey আরকি। তুমি আমায় জিগ্যেস করলে নির্দেশক হওয়ার journey, কিন্তু এটা আমি বলে ফেলছি। তারপর এমন কিছু থিয়েটার দেখলাম-নান্দিকার এর কিছু থিয়েটার, বহুরূপীর কিছু থিয়েটার… এর মধ্যে দুটো থিয়েটার আমি ভীষণ ভাবে বলবো – “শেষ সাক্ষাৎকার” একটা। নান্দিকারের গৌতম হালদার, দেবশঙ্কর হালদার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, স্বাতিলেখা সেনগুপ্ত অভিনীত। এবং সর্বোপরি ওরম একটা টেক্সট। টেক্সটে যে কি ঘটছে তা আমি সব বুঝতেও পারিনি কারণ আমার তখন 17-18 বছর বয়েস। তার আগে মেঘনাদ বধ কাব্য আমি দেখেছি ,ছোটবেলায়। “সোজন বাদিয়ার ঘাট”, আমার মনে আছে পরপর আমি 11টা শো দেখেছিলাম, এবং আমাকে দেখলেই নান্দিকারের লোকেরা বলতো এই আবার এসেছে। সেটা দেখেছিলাম আর আমার মনে হয়েছিল, যদি জীবনে কিছু করতে হয়ে তাহলে থিয়েটারটাই করতে হবে। তখন আমি খেলাধুলো চালিয়ে যাচ্ছি পাশাপাশি। এই করতে করতে নটধার একটা ট্রেনিং হয়। সে একেবারে অভিনেতা তৈরী করার, প্রস্তুত করার একটা নিবিড় ট্রেনিং 6 মাসের… সেটা আমি করলাম। সেটা করার পর আর আমার পিছিয়ে আসার জায়গা ছিল না কারণ ততদিনে রবীন্দ্রভারতীতে ভর্তি হয়ে গেছি এবং সেখানে তূর্ণা, অনির্বাণ, মিষকা এবং অনেক সিনিয়র-রা মিলে একসাথে থিয়েটার দেখতে যাওয়া, থিয়েটার করা বা ইউনিভার্সিটি প্রোডাকশনগুলোয় পার্ট নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে রবীন্দ্রভারতীর অনেক ছাত্ররা ইউনিভার্সিটির বদনাম করেন এবং বলেন যে ওখানে কিছু শেখায় না। নিশ্চই তার মধ্যে কিছু সত্য আছে, কিন্তু রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আমায় যা দিয়েছে ,যেরম নটধা আমায় একটা কাজ করার কর্মক্ষেত্র দিয়েছে, সেরম রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওখানকার শিক্ষকেরা, এটা শিখিয়েছেন যে theatre-টা 24 ঘন্টা করার মতো কাজ এবং এটা নিয়ে যে থাকতে হয় এবং একটা huge পড়াশোনা করতে হয়। আমি রবীন্দ্রভারতীর syllabus, ওই ৪টা প্রশ্ন বা ১৬টা প্রশ্ন পরে পরীক্ষা দেওয়া আমি করিনি। Honestly বলছি, স্কুলে যখন পড়াশোনা করেছি তখন করেছি, কিন্তু রবীন্দ্রভারতীতে আমি যে পড়াশোনা করেছি খুব মন দিয়ে করেছি, এবং তাতে আমার অনেকটা সময় গেছে প্রত্তুত হতে। এবং তখন যা পেয়েছি… কোথাও নাচ শিখতে হবে-শিখেছি, গান শিখতে হয়-শিখেছি, কোথাও martial art শিখতে হয়, কেন শিখতে হয় জানিনা তবে আমি স্যারের কাছে শুনেছি, এবং শিখেছি। নান্দিকারের ওই মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখেছি। আমার বাবা বলেছেন যে theatre বুঝতে হলে এসব করতে হয়। খুব অনিচ্ছা সত্ত্বেও, কারণ Class 12 অবধি আমি খুব পড়াশোনা করা ছেলে ছিলাম না, মাঠে ঘাটে ঘোড়ার ছেলেই ছিলাম আরকি। তো সেই জায়গা থেকে আমার জীবনটা বদলাতে শুরু করে। আমি বুঝতে পারি যে যে আমি টা ছিলাম সেই আমিটা বদলে যাচ্ছি। এবং সেগুলো হতে হতে 2007 এসে পরে। সেই সময় আমার জীবনে আরেকটা বড় ঘটনা ঘটে। সেটা হলো ওই মহাভারাতের মতন আরেকটা বড় প্রজেক্ট করে নটধা, যেটার নাম পলাশী। পলাশী যুদ্ধের 250 বছর উপলক্ষে আমাদের একটা বড় প্রযোজনা হয়, এবং ১২-১৩টা দলের অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিয়ে, যার মধ্যে সৌমিত্র বসু, সীমা মুখোপাধ্যায়, দেবাশিষ রায় চৌধুরী এবং আরো অনেক important actors এবং থিয়েটার personalities ছিলেন। আমি সিরাজ উদ দৌল্লা করি। নিন্দে হয়, প্রশংসাও হয়। কিন্তু সেটা করে ভাবি যে কিছু একটা করে ফেললাম জীবনে। এতো important লোকেদের সঙ্গে পার্ট করলাম, এত ছোট বয়েসে। তখনো আমি কলেজ পাশ করিনি। এবং সেটা আমার জীবনে একটা প্রথম EZCC তে অভিনয় , একদম হাউসফুল। সেখানে সাধারণ মানুষের ওরম করতালি। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এই নাটকটি প্রেসেন্ট করতেন এবং উনি বলেছিলেন বাংলা থিয়েটারে এটা একটা মিশন, যেটা আমার বাবা শিব মুখোপাধ্যায় নির্দেশনা করেছিলেন। সেই দিনটা আমার কাছে খুব ইম্পরট্যান্ট। এবং ওই বছরেই, 2007 এর ২২-শে ডিসেম্বর, নটধার জন্মদিনে, আমি প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক নির্দেশনা দি। সেটার নাম ‘এবং সক্রেটিস’। এবং এটা ঘটনাচক্রে হয়ে যাওয়া। যখন আমি প্রথম নির্দেশনা দিচ্ছি তখন আমি Anne Bogart পড়িনি, আমি রবার্ট উইলসন কে জানিনা। মানে অন্তর্জাল, ইন্টারনেট, নিশ্চই তখন এসেছে, তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অতটা ব্যবহার করতাম না। ফলে আমি যে খুব শিখে পড়ে জেনে নির্দেশনা দিতে এসেছি তা নয়। কিছুটা spontaneity, কিছুটা দেখে শেখা, এবং কিছুটা ক্লাস করে শেখা। সেই জায়গা থেকে সক্রেটিস আমি করে ফেলি। তারপর পরপর ঘটে যায়, তারপর প্রতিদিনই তো…মানে এটা তো একটা endless process। আমার আগের প্রযোজনা থেকে যেমন আমি শিখি, তেমন আমার বন্ধুর প্রযোজনা থেকেও আমি শিখি। এবং পৃথিবীর বিভিন্ন কাজ দেখতে দেখতে, পড়তে পড়তে শিখি। এই শেখার process-টা চলছে তো চলছেই। একটা journey-র মধ্যে আছি সেটা বলতে পারো। 2007 এ প্রথম নির্দেশনা ‘এবং সক্রেটিস’, এবং সেখানেও একটা ঘটনা আছে। আমরা যারা ট্রেনিং করেছিলাম, মানে ওই oath নেওয়ার মতো, যে একসাথে থিয়েটার করবো, তাদের মধ্যের আমার সমবয়সী অনেকে ছিল। Rehearsal Process-টা হওয়ার সময়, জানিনা কেন সেটা হয়তো ওই সময়, এই আজকে আমাকে যেমন দেখছো, তেমনটা আমি ছিলাম না। মানে আমাকে দেখে এখন মনে হয় খুব ঠান্ডা মাথার লোক, ভদ্র ভাবে কথা বলে, কিন্তু আমি খেলার মাঠের ছেলে তো, তার-ওপর তখন সদ্য সদ্য খেলাটা ছাড়ছি-ছাড়বো এরম জায়গায়, মেজাজ মুখ কোনোটাই ভালো ছিল না। ফলে আমার অনেক সমবয়সী লোকজন, আমি মনে করি এটাই কারণ, একটা Creative Process থেকে সরে সরে যায় এবং Team ভেঙে যায়। কিন্তু দল ভাঙে না। তখন আমার দলের সিনিয়ররা এগিয়ে আসে। আমি ভেবেছিলাম যে ওটা একটা ইয়ুথ থিয়েটার হবে, কিন্তু তখন আমার দলের সিনিয়ররা সেখানে অভিনয় করেন। অগাস্ট থেকে রিহার্সাল শুরু করি আমরা, এবং অক্টোবরে পুজোর আগে বা পরে, এক্সাক্টলি মনে নেই, কয়েকজন খসে যায়। তখন সেই জায়গায় আমি নতুন process করি, এবং বড়দের নিয়ে। আমার মা ও একটা অভিনয় করেছিলেন সেখানে। সেটা আমার কাছ মজার এবং দুঃখের, এবং আমায় শিখিয়েছিল যে থিয়েটার শুধু একটা সুখকর স্মৃতি নয়। মানে আমার জীবনের প্রথম থিয়েটারের নির্দেশক হিসেবে যে অভিজ্ঞতাটা সেইটা সবটা মিলিয়ে আমায় অনেকটা জোর দিয়েছিল, শিখিয়েছিল যে জীবন বেশ জটিল। এবং তারপর সময় আমার ব্যক্তিত্ব, আমার বেড়ে ওঠার ধরণ, আমার নির্দেশনা দেওয়ার ধরণ, সেগুলো একটু একটু করে বদলাতে থাকলাম।

KMDB: মানুষ এবং নির্দেশক হিসেবে তোমার যে বদল হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে আমাদের প্রশ্ন যে আজ দাঁড়িয়ে তুমি যদি ‘এবং সক্রেটিস’,’সিজার ও ক্লিওপেট্রা’ বা আগের অন্য নাটকগুলো আবার পরিচালনা করতে, তাহলে কি একই ভাবে নির্দেশনা দিতে?

অর্ণ: মানুষ হিসেবে আমি থিয়েটার করতে এসে অনেক বদলেছি। আমি যদি আজকে সক্রেটিস করি, সত্যি কথা বলছি, 2017 তে আমি যদি করি… আসলে এক বছর আগেও একটা কল শো তে করেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল ‘এবাবা এটা ঠিক হচ্ছেনা’। মানে ওইরকম ভাবে বোধহয় আমি আর communicate করতে পারছি না। যেই নাটকটা একটা সময় দেখেছি লোকে টান হয়ে দেখতো, সেখানে এখন কোথাও গন্ডগোল হচ্ছে, কোথাও খামতি হচ্ছে। একদম সুন্দর জায়গা তুমি ধরেছ। একটা সময় আমি ছোট একটি Theatre তৈরি করি। অনির্বাণ (ভট্টাচার্য) রা একটা থিয়েটার করেছিল, নাম ছিল ‘তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে’। তখন অনির্বাণ ওটা অদৃজা দির সাথে লিখেছিল। ওখানে অনির্বাণ, তথাগত, অভিজিৎ, এদের নাম টাই মনে পড়ছে, আর অদৃজা দি, নিজে কেয়া চক্রবর্তীর ভূমিকায়। ওদের নাটকটা আমায় নাড়িয়ে দিয়েছিল। একটা খুব বিরাট ক্যানভাসে কিছু সেটা নয়, কিন্তু ভীষণ ইম্পরট্যান্ট documentation আর emotional content-ও ভীষণ ছিল। ওরা যে পারফর্ম করত, সেই নাটকটি দেখে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের conversation… তারা নিজেদের মধ্যে নাটকটা দেখে আলোচনা করছে। সেই একটা থিয়েটার আমি বানিয়ে ফেলেছিলাম, এবং সেটা আমার খুব পছন্দের। সেটা আমি দুটো শো করে বন্ধ করে দি। তখন আমার মনে হয়, এই যে নাটকের ভাষা… তুমি বলছো 2007 থেকে 2016 তে, কিন্তু আমি বলছি এক বছরের মধ্যেও আমার নিজের নাটক পুরোনো মনে হয়েছে। ‘এই মুহূর্তে’ বলে একটা থিয়েটার করেছিলাম, সেইটা নন্দীগ্রাম এর পর। পরে মনে হলো, যে নাটকটা Issue ভিত্তিক হয়ে গেছে। মানে, এই 2010-এর Caesar ও Cleopatra যখন 2017-তে অভিনীত হলো তপন থিয়েটারে, তখন আমার মনে হলে আমার নিজের যে Caesar-এর অভিনয়টা সেটা অনেকটা বদলানো যায়। কিছু তো constant নয়, পরিবর্তনশীল। সময় বদলেছে এবং আমার মনে হয় আমার নিজের করা পুরোনো কাজগুলো সময়ের সাথে সাথে dated হয়ে যায়। বা কিছু কিছু element থাকে যেটা Classic Element। তখন একটু বদল করে আবার করা যায়। ব্যক্তিগত ভাবে যদি আমায় বলা হয়, তবে আমি বলবো আমি ওই revival-এর খুব একটা পক্ষপাতি নই। তার চেয়ে একটা নতুন নাটক বরং করা ভালো।

KMDB: Caesar ও Cleopatra নাটকে তুমি নির্দেশনা দিয়েছো, Caesar-এর চরিত্রে অভিনয় ও করেছো। এই নাটকে আমরা লক্ষ্য করেছি যে Caesar-এর চরিত্রায়নে দুটি অদ্ভুত interesting দিক আছে- তাঁর ছন্দে কথা বলার ধরণ, এবং একটি negative effeminacy যা দেখলে গা জ্বলতে থাকে। এই চরিত্রায়ন, যা ইতিহাসের বর্ণনা থেকে বেশ কিছুটা অন্যরকম, আনার পেছনে কারণটা জানতে ইচ্ছে করছে।

অর্ণ: প্রথম কথা হচ্ছে যে, আমার এটা বলতে খুব ভালো লাগছে। তুমি চরিত্রায়ণ নিয়ে বলছো তো শুধু? দেখো, দুটো self তো কাজ করে, একটা director self আর একটা actor self। মানে যখন আমি অভিনেতা হিসেবে এই চরিত্র টার নির্মাণ করছি ,তখন অনেকসময় নির্দেশক অর্ণ মুখোপাধ্যায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মানে কখনো নির্দেশক অর্ণ মুখোপাধ্যায় বলেছে এটা কি তুমি করতে পারো ? তারপর অভিনেতা অর্ণ মুখোপাধ্যায় সেটাকে justify করেছে। সেই জায়গা থেকেই তোমার প্রশ্নের উত্তর দি। প্রথমে বলা ভালো, এই নাটকটা প্রথম অনুবাদ করেন রুদ্ররূপ মুখোপাধ্যায়। একজন অসম্ভব ধুরন্ধর এবং অসম্ভব powerful একজন ছাত্র। এবং 2010 থেকে 2017 তে, এই সাত বছরে, সে ওই ছাত্র থেকে একটা দুর্দান্ত শিক্ষক হওয়ার জায়গায় পৌঁছে গেছে। সে প্রথম নাটকটা আমায় দেয়। তারপর আমি পড়ি এবং আমার চমৎকার লাগে। ও এটাকে অনুবাদ করে এবং আমরা দুজনে তারপর নিজেদের মতো করে অনেক deviate করেছি Bernard Shaw থেকে। আমরা তো জানি Caesar টাক মাথা, তিনি এক কানে কম শুনতেন, তার মৃগী আছে, এবং তিনি একটা অসম্ভব রাশভারী লোক। মানে আমার পড়ে পড়ে এরম মনে হয়েছে। ধুরন্ধর এবং অসম্ভব ক্রুর বুদ্ধি তার। সেই জায়গা থেকে আমরা প্রথম ঠিক করি যে একে একটা, আমি নিজে অভিনয় করবো বলে নয়, একে একটা কম বয়েসি রাজা বানাবো। এবং অনেক বেশি youthfulness তাঁর মধ্যে থাকবে। একজন কমবয়সী শাসক, তার মধ্যে কিভাবে পুরুষতন্ত্র বাসা বেঁধে আছে, সে কিভাবে একজন মহিলা কে শুধু ব্যবহার করছে তাই নয়, ভালো যে বাসছে না তা নয় কিন্তু, তবে পুরুষতান্ত্রিক জায়গা থেকে। তুমি যে বলছো না effiminacy টা আনা হয়েছে। দেখবে আমাদের স্কুলে বা কলেজে একজন না একজন ছেলে থাকে, যার মধ্যে effeminate ব্যাপারটা থাকে। তাকে আমরা ভীষণ ভাবে mock করি। সে হয়তো ছেলে হিসেবে খুব ভালো, কিন্তু সেখানেও আমাদের মধ্যে একটা পুরুষবাদ কাজ করে। আমরা আসলে পুরুষটিকে ছোট করছি না, আমরা আমাদের বিপরীত লিঙ্গের মানুষ টাকে ছোট করছি। এই জায়গা থেকে চরিত্রটা ভাবা, আর এই লোকটাই Caesar-এর মধ্যে আছে। এই লোকটা একটা অত্যাচারী লোক হয়ে ওঠে। এবং আরেকটা psychological জায়গা আছে, মানে আমি জানিনা এটা আমি ঠিক বলছি কি না। এটা আমার personal observation যে মেয়েদের সাথে তাদের, মানে ওই ধরণের ছেলেদের খুব তাড়াতাড়ি বন্ধুত্ব হয়, আমি ছোটবেলায় দেখেছি। যেভাবে ও Cleopatra-কে hypnotise করে, সেটা ওই effiminacy-টা দিয়েই কিন্তু, কারণ ও জানে যে Cleopatra নিজে একজন অত্যন্ত powerful character। তাই তার উল্টোদিকে ওই কড়া পুরুষ হয়ে সে আসে না, ছদ্মবেশী হয়ে আসে। এবং সেটা কিন্তু ওই, তোমরা প্রথম দৃশ্যটা যদি মনে কর, এর মধ্যে কোথাও ওই শাসকের চালাকিটা লুকিয়ে আছে। এবং দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, Caesar যখন রাত্তিরে Rufio আর Britanus-এর সঙ্গে কথা বলে, ওই দৃশ্য টায় দেখবে, ওখানে কোনো ছন্দ বলেনা সিজার। ওটা কিন্তু Caesar নিজে। আমি চেষ্টা করেছি, জানিনা কতটা communicate করতে পেরেছি… ওখানে কিন্তু সিজারের একটা আঙ্গুলও নড়েনা, ঘেমে স্নান ও করে যায়না ওই scene টা করতে গিয়ে, এবং মনে হয় সে একটা অন্য লোক। আমি চেষ্টা করেছি, আমার ভিতরে ওটা কাজ করেছে। ওই বলে না ‘শাসক Caesar টা যখন ঘুমিয়ে পরে আমার মধ্যে মানুষ Caesar টা তখন জেগে ওঠে’। ‘তোমাদের রাগ হয়না ওই শাসক Caesar টার উপর?’, তার দুজন সঙ্গীকে সে বলে। তখন একটা অন্য Caesar। আর সেই Caesar দুর্বল হচ্ছে Cleopatra-র প্রতি। কিন্তু যখন সে পাবলিক ফোরামে যায়, তখন তাকে নাচতে হয়। যখন সে আগ্রাসন টা বোঝাতে চায়, এবং সে প্রিয় হতে চায়, তখন সে যা নয় সেটা দেখিয়ে প্রিয় হতে চায়। এবং যা যা লোকেদের কাছে popular elements, সেগুলো সে ব্যবহার করে অস্ত্র হিসেবে। Mass তাতে ভড়কে যায়। কেন শাহরুখ খান কে প্রতিটা ছবিতে এরম করতে হয়? তিনি অত বড় মাপের একজন অভিনেতা। উনি তো ওটা বেঁচেন। তেমনই Caesar তার ওই নাচ, তার ওই populism-টা তিনি কাজে লাগান,বারবার বলছি, ওই মানুষের মন জিতে নেওয়ার জন্যে। কিন্তু সে ultimately পারেনা। তাই, ইতিহাসের নিয়ম অনুযায়ী ওই রক্তপাত, ওই আগ্রাসনটা এসে পরে। সিজারের চরিত্রেরও ওটাই tragedy বলা যেতে পারে। সে যেভাবে চেয়েছিল সেটা হলোনা। Ultimately তাকে বলতে হলো, ‘চলো আমাকে বিশ্রামে নিয়ে চলো’। সেটাও কোনো একটা জায়গা, যেখানে মানুষ Caesar পরে আবার তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে। ওই আগ্রাসনটা খুব consciously করা, ওই ছন্দে কথা বলা টা খুব consciously করা, এবং প্রত্যেকটা জিনিস মেপে মেপেই করা যে এই করলে এই effect হবে। মানে আমি দর্শকদের কথা বলছিনা, আমি আমার সহ অভিনেতা দেড় কথা বলছি, যারা মিশরীয় দেড় অভিনয় করছে। আমি প্রথমদিন যখন rehearsal-এ Caesar হিসেবে নিজের সঙ্গীদের পরিচয় দিচ্ছি, ওরম পিটিয়ে পিটিয়ে, এবং গায়ের উপর পা-টা তুলে দিচ্ছি, তখন আমার সহ অভিনেতাদের দেখেছি, তারা ভয়ার্ত ভাবে দেখছে। আমি চেয়েছিলাম ওটাই হোক। মিশরীয়রাও কিছু বলতে পারবে না। প্রতিবাদের ভাষাটা সেই সময় পাবে না। মানে ওই moment-এ তারা at a loss থাকবে। এটাই আগ্রাসনের চেহারা। এটার জন্যে ঐভাবে চরিত্রায়ণ করা। এবং ওই effeminacy-র জায়গাটা, ওই গা রি রি করে ওঠার জায়গাটা, খুব inhuman মনে হয় আমার। যারা ওই ধরণের চরিত্র কে mock করে, সেই জায়গা থেকে Caesar-কেও তো কিছু কিছু সময় inhuman লাগে। যখন সে বেলাফ্রিজের মতো একটা যোদ্ধা কে, আমরা এখন যেটাকে মানব বোমা বলি, ওই ভাবেই ব্যবহার করলো। সন্ত্রাসবাদও এইভাবেই উঠে আসে। সেই জায়গা থেকে আমার text-টাকে খুব important মনে হয়। এবং যে জায়গা থেকে Caesar-এর চরিত্রায়ণ করেছেন, সেটা not for exhibitionism। দেখো আমি নাচ জানি, দেখো আমি চায়ের পাত্রটাকে এরম পিছনে ছুড়ে ফেলতে পারি,আমি লাঠি ঘোরাতে পারি, এগুলো তো অবচেতনে ছিল। যে এগুলো আমি পারি আমি দেখাবো। কোথায় দেখাবো আমি এগুলো শিখেছি, আমি তো রাস্তায় গিয়ে সার্কাস করে দেখাবো না। Stage-টাই তো আমার নিজেকে express করার জায়গা। সেইদিক থেকে কিন্তু মূল জাস্টিফিকেশন ছিল আমার চরিত্রের লোকটাকে, আমার Caesar-এর অন্তরটাকে, বহিরঙ্গ টাকে। সে যেভাবে নিজেকে সাজাতে চায়, সেটা যেন 100% penetrating হয়। এবং আমার অভিনেতা হিসেবে ঐটা একটা journey ছিল। সক্রেটিস যখন আমি করি, সক্রেটিসে একবারও চেয়ার ছেড়ে উঠিনা। পুরো নাটকটা চেয়ারে বসে থাকি। তারপরেই 2010-এ আমি Caesar করি। তখন ওটা নিজের কাছে আমার challenge ছিল। তারপরে আমি আবার তুঘলক করি, একটা পাগলা রাজার অভিনয়। তারপর আবার অথৈ করা হয়। এটা আমার অভিনেতা হিসেবে চ্যালেঞ্জ যে কতটা ভাবে নিজেকে ভেঙে গড়ে দেখা যায়। সেটাও একটা দিক।

Arna Mukhopadhyay (front) in সিজার ও ক্লিওপেট্রা
Arna Mukhopadhyay in একা তুঘলক



KMDB: তোমার নির্দেশনায় যে কটি নাটক আমরা দেখেছি, প্রত্যেকটি নাটকে একটি চরিত্র থাকে যে পুরো narrative-টা নিজের হাতে এগিয়ে নিয়ে যায়। যেমন অথৈতে অনগ্র চ্যাটার্জি, সুন্দর-এ Joker বা শেষরক্ষার হারমোনিয়াম বাদক। এই চরিত্রগুলিকে তোমার পরিচালনার Signature Mark হিসেবে ধরা যেতে পারে কি?

অর্ণ: এটা বলাটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। Signature Mark এর জায়গায় আমি এখনো পৌঁছইনি, প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, হ্যাঁ তুমি ঠিক ধরেছ, আমার ওটা একটা conscious effort থাকে। তার অনেকগুলো artistic কারণ রয়েছে, আবার অনেকগুলো emotional কারণ ও রয়েছে। Artistic কারণ গুলোর মধ্যে একটা আমার মনে হয় যে, অনেকে রেগে উঠতে পারেন যে, তাহলে কি নাট্যকার সবটা বোঝাতে পারছেন না ? তা কিন্তু নয়। সুন্দরের জায়গা থেকে আমি বলতে পারি, যে জোকার চরিত্র টা, সে পুরো নাটকটিকে এগিয়ে নিয়ে চলে। আমার ছোটবেলায় সার্কাস দেখতে খুব ভালো লাগতো এবং আমার মনে আছে যে আমি যে অনেক সার্কাস দেখেছি তেমনটা নয়। সবাই হাসতো, আমিও হাসতাম, কিন্তু আমার চোখ দিয়ে জল পড়তো, আমি জানিনা কেন। অনেক ছোটবেলার আমার সেই স্মৃতি আছে এখনো। এবং তারপর যখন আমি Mera Naam Joker দেখলাম, অনেক ছোটবেলায় দেখেছি, আমার ভিতরটা তোলপাড় হয়ে গেছিলো। আমার মনে হয়েছিল যে the most beautiful person হল একজন জোকার। যে philosophy-টা সুন্দরে বলা হয়। সেই জন্যে এই চরিত্রটা beyond text তৈরী করা হয়। এবং, ওই narrate করার মতো, কোথাও আলাদা করে underline করার মতো এই জায়গাটা তোমরা ভাবো। তোমরা সুন্দর দেখেছো, তোমরা বুঝতে পারছো। এবং ‘শেষরক্ষা’-য় একটা musical therapy করে ওই লোকটা, যে সবসময় music নিয়ে নিয়ে communicate করে। এটার আরেকটা artistic কারণ রয়েছে। সেটা হলো আমার এই গল্প বলার form-টাকে ভাঙতে খুব ভালো লাগে। যেরম আমি তোমায় interview শুরুর আগে বলছিলাম যে Inarritu-র দর্শন আমায় ভীষণ প্রভাবিত করে। তিনি দেখান যে কতগুলো লেয়ারে গল্প বলা যায় এবং সেটা কোথাও গিয়ে একজায়গায় আসে। সেটা আমার থিয়েটারের দর্শনটাকে বদলে দিয়েছে। মানে, শিল্পী হিসেবে আমার দর্শনটা খুব ঝাকুনি দিয়েছে। বলছি না যে ওই জায়গা থেকে inspire হয়ে আমি করছি, তা না। কিন্তু ওই একমুখী গল্পের মধ্যেও আমার মনে হয় যে থিয়েটারের যে মজা, সামগ্রিক form-এর যে মজা, সেখানে এই লোকগুলো ঢুকে পরে। কারণ দেখ, at the end of the day এটা একটা straightway communication। এই wall-টা আমি মাঝে মাঝে ভেঙে দিতে পছন্দ করি। সেই জায়গা থেকে হয়তো এই চরিত্র গুলো চলে আসে। ধরো, Caesar-এর একটা গল্প হচ্ছে, সেখানে দুটো spirit চলে এলো, একটা evil spirit আর একটা good spirit। হয়তো ওটা আমার প্রথম দিকের কাজ বলে আমার এখন মনে হয় যে ওইটা খুব straight হয়েছে। কিন্তু তাও আমার মনে হয়েছিল যে দেখো, মিশরের spirit-টাকে এই মহিলা নিয়ে বেড়াচ্ছে, আর এই ছেলেটি Caesar-এর spirit-টাকে নিয়ে বেড়াচ্ছে। যেটা তুমি দেখবে, অনির্বান যখন Iago করে তখন একটা animosity থাকে। যখন ওরা ওই scene-গুলো change করে, অনেক মানুষ আসে mask পরে। Scene change করে যখন তখন সেটার মধ্যেও দেখবে ওই evil spirit-টা সারাক্ষন অনগ্রর মধ্যে প্রকাশ পায়। শুধু যে ও নাচাচ্ছে পুতুল নাচের মতো সারাক্ষন, তা নয় কিন্তু। সবসময় ওর ছায়াটা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা form-এরও একটা মজা। আমি জানিনা আমার পরের নাটকে হয়তো এটা থাকবে না। তুমি বিষকাল দেখনি, সেখানে এটা নেই। কিন্তু ওই form ভাঙার মজাটা আছে, shifting-এর মজাটা আছে, stage ভাঙার মজাটা আছে। এটা একটা artistic জায়গা থেকে। আর emotional জায়গার প্রথমটা তোমায় বলেই ফেলেছি। ওই জোকারের মত কিছু কিছু চরিত্রের প্রতি আমার আকর্ষণ। তারপরে, আমার নির্দেশনায় আসার আগে যেগুলো হতো না, ওগুলো রয়ে যায় কোথাও root-এ। যে নান্দি থাকতো সংস্কৃত নাটকে, যে বলতো যে শুরু হচ্ছে আসুন, আপনারা এবার একটু প্রস্তুত হন, এই গল্প টা হচ্ছে। কালিদাসের নাটকে সূত্রধার থাকতেন, যিনি সূত্র ধারণ করে চলতেন। সেটা হয়তো কোথাও ভিতরে রয়ে গেছে। ওই emotional জায়গা থেকেও চলে আসে এসব।

                                          To be continued…

In শেষরক্ষা

Stay tuned for the next episode of this interview

Interview Conducted by Abhirup Sen

Blog Transliterated and Edited by Anurupa Sen and Abhirup Sen

Decoding the Red: A Session with Indudipa Sinha and Krishnendu Adhikari

Code Red, a unique theatrical presentation, will be staged for the first time in February 2017 (4th and 15th February, Gyan Manch). This is a play presented by Project Prometheus, based on Rabindranath Tagore’s ‘শিশুতীর্থ’, and inspired from Matei Visniec’s “Body of a woman as a battlefield in Bosnian War”. The play is directed by Indudipa Sinha, and Krishnendu Adhikari is the Assistant Director and Production Controller. Both of them are performing in the presentation as well. 

Here is our short interview session with these two people, which was conducted via Facebook Messenger. We are grateful to both of them for giving us time amidst their busy schedule.



Indudipa Sinha (above) and Krishnendu Adhikari (below)

KMDB- তোমাদের theater এর সাথে সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলো। নাটক ও তোমরা- তোমাদের নাট্যজীবন।

ইন্দুদীপা– আমার প্রথম মঞ্চে আসা নাচের মাধ্যমে।বহু বছরের নাচের অভিজ্ঞতা থেকেই আঙ্গিক অভিনয়ের প্রতি আমার একটা গভীর অনুসন্ধিৎসা জন্মায়। তারপর ডাক্তারি পড়ার কারণে মানুষের শরীর এবং তার কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার ধারণা আরও স্বচ্ছ হয়। গভীরতর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। Dance & movement therapy নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মানুষের শরীর ও মনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আমার কাছে আরও স্পষ্ট হয়। তারপর ২০০৮ সাল থেকে যখন থিয়েটারে কাজ করতে আসি, তখন এই আঙ্গিক ও বাচিক অভিনয়কে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছেটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতো। আর নাচ- নাটক – কবিতা ইত্যাদি আলাদা আলাদা শব্দ বা ভাষাদের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে অন্য একটা performance language খুঁজে চলেছিলাম। বিভিন্ন দলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে থিয়েটার করার সুবাদে একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বুঝতে পারছিলাম যে performance –এর মাধ্যমে আমার যা যা বলার আছে, তার ক্ষেত্রটা অন্য কেউ তৈরি করে দিতে পারবেনা। সেই জায়গাটা আমাদের নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে। আমার বক্তব্য এবং তার মাধ্যম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে। সেই জায়গা থেকেই Project Prometheus-এর জন্ম। এটা আমাদের কাছে সেই মঞ্চ, যেখান থেকে আমরা নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করতে পারি আমাদের প্রতিবাদের ভাষা, আমাদের অকপট বক্তব্য, আমাদের ভালবাসার প্রতিশ্রুতি।

কৃষ্ণেন্দু– আমি থিয়েটার জগতে একজন নবজাতক বলতে পারো। 2012 থেকে প্রফেশনালিজমের থিয়েটার করছি…শুরু করেছিলাম গ্রুপ থিয়েটার দিয়ে। বিভিন্ন কারণে টিকতে পারিনি। তারপর ফ্রীল্যান্সিং শুরু করি এবং বুঝতে শুরু করি যে তথাকথিত বাংলা থিয়েটার অামাকে স্যাটিসফাই করছে না। কোড রেড- এর গোড়াপত্তন বোধহয় সেখান থেকেই ।

KMDB– Code Red নাটকটি সম্মন্ধে কিছু বলো। এই প্রযোজনা নির্মাণ করার কারণ। 

কৃষ্ণেন্দু– এটা ইন্দু বলবে…

ইন্দুদীপা– আমাদের ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত পারিপার্শ্বিক থেকে জন্ম নেওয়া কিছু প্রশ্ন- অনিশ্চয়তা- দ্বন্দ্ব – দ্বিধা- সীমাবদ্ধতা – আরও আরও অনেক কিছু আমাদের ক্রমাগত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। স্থানীয়- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন চাপানউতোর, তাদের বহুমুখী বিস্তৃতি ও বিবিধ সঙ্কটের প্রতিক্রিয়াকে আমাদের নিজস্ব performance language-এ উপস্থাপন করার অদম্য তাগিদ ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই এই নাটক নির্মাণের অন্যতম কারণ। পৃথিবীর যে কোন দেশের যে কোন যুদ্ধে অগুনতি মানুষের অকারন মৃত্যু এবং দখলদারি দলের ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হিসাবে ধর্ষণের ব্যবহার – মানবসভ্যতার এই দুই কৃষ্ণগহবরের বিরুদ্ধে আমাদের যথাসাধ্য প্রতিবাদের ফসল হল Code Red.

KMDB– এই নাটকটির ধরণ একটু হলেও আলাদা। নাটকটি পরিচালনা বা সহ-পরিচালনা করার প্রক্রিয়া সম্মন্ধে যদি কিছু বলো।

কৃষ্ণেন্দু– এটাও ইন্দুই বলুক

ইন্দুদীপা– পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি performer দের কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া বা চামচে করে গিলিয়ে দেওয়াতে বিশ্বাস করিনা। বিভিন্ন psychotherapy  বা dance-movement therapy-র পদ্ধতি ব্যবহার করে performer দের মধ্যে থেকেই আঙ্গিক বা বাচিক অভিনয় বের করে আনার চেষ্টা করেছি। প্রচুর film, documentary, performance  দেখেছি এবং সবাইকে দেখাবার চেষ্টা করেছি। Training-এর থেকে বেশী গুরুত্ব দেবার চেষ্টা করেছি education কে। দলের সবার মধ্যে আদান-প্রদান বাড়াবার জন্য এবং সমষ্টিগত শিল্পসৃষ্টির তাগিদ তৈরি করার জন্য বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করেছি, residential rehearsal করেছি। আর এই সব কিছু এক জায়গায় এনেই একটু একটু করে তৈরি হয়েছে আজকের Code Red.



KMDB– নাটক নির্মাণের সময় এমন কোনো ঘটনা যা মনে দাগ কেটেছে।

কৃষ্ণেন্দু– প্রচুর…প্রথমত প্রফেশনালিজমের সম্পর্কে নতুন সব নলেজ হল। এছাড়া বুঝলাম এই ধরনের কাজ করার জন্যে রেপার্টরি সিস্টেমে এগোনোই যথাযথ।

KMDB– Code Red প্রথম মঞ্চস্থ হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। কি ধরণের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছ দর্শকের থেকে।

ইন্দুদীপা– মানুষ একটু ভাবুক…ভাবা প্র্যাকটিস করুক। নিজেকে নিয়ে, নিজের চারপাশটা নিয়ে, অন্য মানুষদের নিয়ে ভাবুক। নাচ, নাটক, থিয়েটার, performance এই সব সব কিছুকে একটু খোলা মনে নিতে পারুক। চিরাচরিত ধ্যান-ধারণা বা অভ্যেস থেকে একটু বেরিয়ে আসুক।

কৃষ্ণেন্দু– হয় খুব ভাল নয়তো খুব খারাপ! আসলে আমরা কাজটা শুরু করেছিলাম নিজেদের খিদে মেটাতে। দর্শকদের স্যাটিসফেকশ্নের ব্যাপারটা খুব একটা মাথায় ছিলো না।

Interview Conducted and Blog Edited by Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

Photographs (except those of Indudipa and Krishnendu) : Dinesh Podder

ইতি রিয়া: An evening with Avigyan Chatterjee

Avigyan Chatterjee is a person who grew up with films. As far as his directorial ventures are considered, he says that presently he is on the Second Phase of his career. The first film that will be a part of his ‘Second Phase’ is Dear Riya, a thriller-drama presented by One Love Media. He spent a few hours with us, speaking his heart out about films and his creations, via Facebook Messenger.


Avigyan Chatterjee


KMDB
– অভিজ্ঞান তোমাকে KMDB তে স্বাগত।


অভিজ্ঞান
– ধন্যবাদ।


KMDB
– Dear Riya-র পোস্টার আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে।


অভিজ্ঞান
– ধন্যবাদ আরো একবার। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে চলেছি নতুন কিছু করার।


KMDB
– সেটাই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। একত্রিত চেষ্টা নতুন ভাবনার জন্ম নেয়। তোমাদেরও তাই হচ্ছে।

অভিজ্ঞান– ধন্যবাদ।

KMDB– বেশ।শুরুতে আমরা একটু পিছনের দিকে তাকাই। তোমার সাথে সিনেমার সম্পর্ক নিয়ে যদি কিছু বলো। ছবি তৈরির যাত্রা শুরু করার আগে সিনেমা তোমার চিন্তাভাবনায় ঠিক কি প্রভাব ফেলে?

অভিজ্ঞান– ছোটবেলা থেকেই সিনেমা দেখার নেশা।কোনোদিন ভাবিনি যে সিনেমা বানাবো। তবে সিনেমা আমাকে খুব টানতো। ক্লাস ফাইভে স্কুলের ইংলিশ গ্রামার বই তে “Making Movies” বলে একটা চ্যাপ্টার ছিল। এই চ্যাপ্টারে সত্যজিত রায় লিখেছিলেন যে উনি পথের পাঁচালি তৈরি করতে গিয়ে কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন। এই বিষয় টা আমাকে খুব আকর্ষিত করেছিল তখন। এক এক করে সত্যজিৎ বাবুর ছবি দেখা শুরু করলাম VCR এ। কারণে সেই সময় ইন্টারনেট তো দূর, DVD-রও খুব কম অস্তিত্ব ছিল। পথের পাঁচালি আর নায়ক আমার মনে খুব প্রভাব ফেলেছিলো। তারপর টিভিতে আস্তে আস্তে হিন্দি ও বাংলা ছবি দেখতে শুরু করলাম। ক্লাস সেভেনে আমি বুঝতে পারলাম আমি সিনেমা কে ভালোবেসে ফেলেছি।

KMDB–  বাঃ,বাঃ। বেশ। ক্লাস সেভেন এর পর থেকে Dear Riya পর্যন্ত একটা লম্বা journey। সেটা নিয়ে যদি আমাদের কিছু বলো। সিনেমা তোমার সাথে কতটা জড়িয়ে ছিল এই সফরে?

অভিজ্ঞান– প্রচন্ড ভাবে জড়িয়ে ছিল। সবাই নিজের daily lifestyle কে 3 ভাগে ভাগ করে। ৮ ঘন্টা কাজ/স্কুল, ৮ ঘন্টা extra curriculam activities আর ৮ ঘন্টা ঘুম। আমি সেই 3 ভাগের মধ্যে ৮ ঘন্টা সিনেমা কে দিতাম, extra curriculam activities এর মধ্যে। স্কুল pass out করে কলেজ।এই সময়ের মধ্যে সিনেমা নিয়েই থাকতাম। কলেজে থাকাকালীন আমার বন্ধু রজত এর সাথে Facebook এ আলাপ হয়। ও তখন media science নিয়ে পড়াশুনো করছে, আর short flim বানানোর চিন্তা ভাবনা করছে। Facebook-এ ওর সাথে সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা তো হতোই। একদিন  আমাকে ও নন্দনে ডেকে পাঠালো। টলিউডের এক পরিচালকের জন্মদিনের শুভেচ্ছার ভিডিও ক্যামেরা করতে। কিছুই জানতাম না তখন। শুধু ক্যামেরা ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আর রজত anchoring করে যাচ্ছিল, আর ওর বন্ধুরা সেই পরিচালকের উদ্দেশ্যে birthday wish বলে যাচ্ছিলো। আমি ক্যামেরা ধরে রেকর্ড করে যাচ্ছিলাম। তার এক সপ্তাহ পর রজত আমায় জানায় যে ও Short Film বানাচ্ছে এবং ও আমাকে assistant director হিসাবে চাইছে, যাতে আমি ওকে সাহায্য করতে পারি। তারপরেই জড়িয়ে পড়লাম সিনেমার জগতের সাথে, আর সেদিন তৈরি হলো আমাদের টিম “ONE LOVE MEDIA”।

KMDB– বেশ। Dear Riya তোমার প্রথম নির্দেশনা,তাই তো?

অভিজ্ঞান– বলতে পারেন। Dear Riya আমার 2nd stage এর প্রথম নির্দেশনা। ক্যারিয়ার এর শুরুতে বেশ কটা short flim বানিয়েছিলাম। সেগুলো amateurish ছিল খুব। তাই 2nd stage এ এসে amateurish এর থেকে ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি।

KMDB– এই amateurish ছবি গুলোর ব্যাপারে যদি কিছু বলো।

অভিজ্ঞান– নিশ্চয়। আমার প্রথম ছবি ছিল “Friends Forever”। 3 জন বন্ধুকে নিয়ে গল্প।দ্বিতীয় ছবি ছিল “Road”। এটা একটা সামাজিক বার্তা পাঠানোর ভিডিও। প্রথম দুটো ছবি করে আমি অনেক কিছুই শিখেছিলাম। শিক্ষাটাই সব থেকে জরুরি। বুঝতে যখন পারলাম আমার ভুলটা কোথায় হচ্ছে, আমি আরো পড়াশুনো করা শুরু করলাম। তবে হ্যাঁ, প্রত্যেকটা পদক্ষেপে আমাকে গাইড করেছিল রজত। ও না থাকলে আমি হয়তো filmmaking-এ অনাথ থেকে যেতাম। আর একজন মানুষের কাজ দেখে সেই সময় আমি খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।তিনি হলেন Mr.Gautam Vasudev Memon, একজন তামিল ছবি পরিচালক। ওনার craft আর filmmaking styles study করতে করতে আমি বুঝতে পারলাম আমার ভুলটা কোথায় হচ্ছিলো। আর তৃতীয় ছবি ছিল “Silent Lover”। এটা একটা ক্লাসিক হলিউড শর্ট ফ্লিম থেকে অনুপ্রাণিত। এই ছবিটা আমি যখন সবাইকে দেখিয়েছি তখন সবাই বলেছিলো আমি উন্নতি করেছি কিছুটা হলেও।এর মাঝে আমি আরো অনেক ছবি বানাই যেগুলো বিভিন্ন কারণে মুক্তি পায়নি।

KMDB– বাঃ,খুব interesting কাজগুলো। দেখার ইচ্ছা রইলো। হোক amateruish, তবুও। আচ্ছা।আমরা Dear Riya তে ফিরে আসি। এই ছবি টা সম্বন্ধে যদি কিছু বলো।

অভিজ্ঞান– ধন্যবাদ। Dear Riya একটি thriller ছবি। প্রধান চরিত্রের নাম আশীষ। আশীষ জানতে পারে যে তার স্ত্রী তাকে ঠকাচ্ছে। মানে তার স্ত্রী অফিসের প্রজেক্ট হাতে পাওয়ার জন্য তার বস এর সাথে compromise করছে। আশীষ এই জিনিসটা মেনে নিতে পারেনি, এবং সে সিদ্ধান্ত নেয় যে আজকে সে তার স্ত্রী কে খুন করবে। খুন করার আগে সে একটা চিঠি লেখে যে তার স্ত্রী তাকে কিভাবে ঠকাচ্ছিলো।বাকি গল্প টা জানতে গেলে আপনাদের অবশ্যই ছবিটা দেখতে হবে।

Official Poster of Dear Riya


KMDB
– খুব অন্যরকম একটা ছবি।এরকম একটা গল্প বা idea হটাৎ মাথায় এলো? কোনো উৎসাহ নাকি হঠাৎ-ই ?

অভিজ্ঞান– Idea টা রজতের। ওর-ই লেখা গল্প আর স্ক্রিপ্ট। প্ল্যান করছিলাম অনেকদিন ধরেই, যে একটা অন্যরকম thriller ছবি বানাবো। রজতের সাথে আলোচনা করার সময় ও হঠাৎ করেই আমাকে এই গল্পটি শোনায়। ও খুব ভালো গল্প লেখক-ও। গল্পটি এক বারেই আমার ভালো লেগে যায়। ঠিক করে ফেলি এই গল্পটি নিয়েই আমরা কাজ করবো। তারপর রজত স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলে। রজত এর একটা অন্যরকম অসাধারণ প্রতিভা আছে। ও কথার মাধ্যমে গল্পটা হটাৎ করেই সাজিয়ে ফেলতে পারে। সুতরাং আমাদের উৎসাহ ছিল বিকেলের চা-এর আড্ডা আর কথোপকথন গুলোই।

KMDB– দারুন। বেশ বেশ। এই second phase এ হঠাৎ ছবিতে নির্দেশনা করলে? তোমার ইচ্ছেতেই নাকি রজত জোর করেছিল?

অভিজ্ঞান– নির্দেশনা করার ইচ্ছা তো আমার আগেই ছিল। রজত আমাকে আরো উৎসাহ দিলো এই ছবিটা করার জন্য। সব থেকে বেশি আমাকে আকর্ষণ করেছিল রজতের গল্প বলার ধরণ। গল্প বলার ধরণ ভালো লাগলেই যেকোনো ছবি নির্দেশনা করার ইচ্ছেটা অনেকটাই বেড়ে যায়।

KMDB– এটা খুব সত্যি কথা। দ্বিতীয় অধ্যায় নির্দেশক হিসাবে প্রথম যখন ক্যামেরার পিছনে দাঁড়ালে তখন নিজের প্রতি কতটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলে?

অভিজ্ঞান– অনেকটাই। রজত আর আমার গোটা টিম আমাকে প্রচন্ড পরিমানে সমর্থন করেছিল। সবারই কাজের ধারণা মারাত্মক। আমার বলার আগেই বুঝে যায় যে আমি কি চাইছি। আমাদের হাতে খুবই কম সময় ছিল। দিনের আলো থাকাকালীন শ্যুট করতে হতো। ছবিটি তিন ঘন্টায় আমরা শ্যুট করেছি। আর সেটা সম্ভব হয়েছে আমার টিমের জন্য। টিম এর মধ্যে co-ordination টা খুব জরুরি। সেটা আমাদের মধ্যে আছে বলেই হয়তো আমার দ্বিতীয় অধ্যায়ের নির্দেশনায় খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।

KMDB– বেশ বেশ। শ্যুট এর সময় এমন কোনো ঘটনা বা মুহূর্ত যা সারা জীবন মনে থেকে যাবে?

অভিজ্ঞান– প্রত্যেক দলের সদস্যদের উৎসর্গ। আর DOP প্রসেনজিৎ দার সাথে অসাধারণ co-ordination। প্রসেনজিৎ দা আমার point of view টা খুব ভালো বুঝতে পারে। আমাকে অনেক গঠন মূলক idea দিয়েছে, যেগুলো আমি ছবিতে কাজে লাগিয়েছি। আর মনে থেকে যাবে আমাদের নায়িকা সুলগ্নার স্ক্রিপ্ট এর প্রতি ধারণা। ও প্রথমবার অভিনয় করলো। কিন্তু দেখে মনে হয়নি। দু-বার একটা scene বোঝানোর পরেই ও সঠিক অভিনয় টা করে দিলো।

Team Dear Riya

KMDB– তাহলে বলতেই হবে তোমার দ্বিতীয় অধ্যায় বেশ মসৃন ভাবেই শুরু হলো। ছবি মুক্তি পেতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এখন কি কোনো দুশ্চিন্তা কাজ করছে? কি রকম reaction আশা করছো?

অভিজ্ঞান– সাধারণ একটা anxiousness তো থাকেই, যে মানুষ কেমন react করবে ছবিটা দেখার পর। আমি পুরোটাই দর্শকের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।কারণ ultimately তারাই বিচার করবে ছবিটি খারাপ হয়েছে না ভালো হয়েছে। ততক্ষন পর্যন্ত fingers crossed।

KMDB– আমাদেরও তাই। Dear Riya-র পরে আমাদের তোমরা কি উপহার দিতে চলেছ?

অভিজ্ঞান– আমাদের টিমের সদস্য সায়ন তার জীবনের প্রথম ছবি বানিয়েছে। এটা একটা রোমান্টিক ছবি। রজতের পরবর্তী ছবি নিয়ে আলোচনা চলছে।আমার হাতে তিনটি স্ক্রিপ্ট তৈরি আছে। একটা thriller আর দুটো রোমান্টিক-ট্রাজেডি। ইচ্ছে আছে আমার নির্দেশনায় রোমান্টিক ট্রাজেডি ছবিটি বানানোর।

KMDB– বাঃ,দারুন। অনেক কিছু নিয়ে ঝোলা ভরিয়ে ফেলেছো তোমরা। আপাতত Dear Riya-র অপেক্ষায় দিন গোনা শুরু হলো। আমরা নিশ্চিত এই ছবি সবার মন জয় করবে। ধন্যবাদ অভিজ্ঞান আমাদের সাথে এতক্ষন সময় কাটানোর জন্য।যাওয়ার আগে একটা প্রশ্ন। এখন অনেক নতুন নির্দেশকেরা এই ইনডিপেনডেন্ট সেক্টরে এসেছে, এবং অনেকেই বেশ promising। তাদের উদ্দেশ্যে তোমার ছোট্ট উপদেশ যদি দাও।

অভিজ্ঞান– ধন্যবাদ। আমারও আপনাদের সাথে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগলো। সত্যি কথা বলতে গেলে আমি নতুন independent নির্দেশকদের উপদেশ দেওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছায়নি। তবে যদি বলতেই হয় এটাই বলবো যে ধৈয্য ধরো, অনেক পড়াশুনো করো ছবি বানানো নিয়ে, আর তোমার স্বপ্নের পিছনে লেগে থাকো। একদিন না একদিন তোমার দিন আসবেই।


KMDB
– বেশ বেশ।অনেক অনেক ধন্যবাদ আবারো।শুভরাত্রি।

অভিজ্ঞান– শুভরাত্রি।

Dear Riya Sneak Peek Poster


Interview Transliterated by Aushnik Das (HR Head, KMDB)
Interview Conducted and Blog Edited by Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

দুই অঙ্কের মাঝে: An evening with Nirup Dasgupta

Nirup Dasgupta is a newbie in the Independent Filmmaking arena of Bengal. A young lad, whose honesty and dedication is reflected fully in his debut venture, which is a narrative based on real life experiences. He spoke his heart out while in conversation with us via Facebook Messenger.


Nirup Dasgupta

KMDB– নিরূপ,Kolkata Movie Database এ তোমায় স্বাগত।

নিরূপ– ধন্যবাদ।

KMDB– ‘দুই অঙ্ক’ আমাদের বেশ অন্য রকম লেগেছে।ছবিটা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছে। Congratulations.

নিরূপ– ধন্যবাদ।

KMDB– তোমাকে আবারো স্বাগতম। তাহলে আমরা একটু পিছনের দিকে তাকাই? তোমার সাথে সিনেমার সম্পর্ক ঠিক কোন সময় এবং কি ভাবে ঘটলো?সিনেমার সাথে তোমার যাত্রাপথের ব্যাপারে কিছু যদি বলো।

নিরূপ– দেখুন, সিনেমা দেখতে আমার ছোট বেলা থেকে খুব ভালো লাগে। আর আমি একটা সময়, মানে ছোটবেলাতে, নাটক করতাম। তো আমার এই ব্যাপার টা খুব ভালো লাগতো। এছাড়া আমার মা এর জন্য অনেক খাটাখাটনি করেছি একটা সময়ে এবং আমার সাংবাদিকতা বিভাগের যে বন্ধুরা আছে তাদের মুখে গল্প শুনে ওদের পড়াশুনোর ধরণ দেখে আমি একটু inspired হয়েছি। আর সময় বার করে অনেক ছবি দেখি, তো এই সব দেখেই আর কি! বেশ ভালো লাগে আমার।

KMDB– বেশ বেশ। খুব ভালো। দুই অঙ্ক কি তোমার প্রথম ছবি?

নিরূপ– হ্যাঁ, একদম প্রথম কাজ। আর অবশ্যই হিমাদ্রি দা, অভি দে আর WISDOM TREE আমাকে সুযোগ টা দিয়েছে, তার জন্য আমি খুবই খুশি।

KMDB– আচ্ছা। বাঃ। তা এই ছবিটা সম্বন্ধে যদি কিছু বলো। মানে একজন পরিচালক হিসেবে কি মনে হয় ছবি টা নিয়ে। কেনই বা এমন একটা narrative নিয়ে প্রথম ছবি?

নিরূপ– ব্যাপার টা হলো জীবনে আমরা অনেক কিছুই ভাবি কিন্তু সেগুলো materialize হয়ে ওঠে না।আমার প্রাক্তন ছেলেটা এমন করলো? আমি থাকলে এই রকম করতাম।মানে ব্যাপারটা আসলে ছিল একই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দুজন মানুষ কি কি করতে পারে… ওটাই দেখার চেষ্টা করেছিলাম।

KMDB-খুব সুন্দর perspective। কিন্তু হঠাৎ এমন একটা ভাবনা এলো কেন তোমার ?

নিরূপ– দেখুন, এটা আমার প্রথম কাজ। সুতরাং একজন পরিচালক হিসেবে আমার 100% দিয়েছি।আর দ্বিতীয়ত হলো এই রকম ভাবনার কারণ মানে এটা হয়তো আমার জীবনের একটা অংশ ছিলো। তবে এই না যে আমি ক্রিমিনাল বা আমি গুলি করেছি, কিন্তু যেদিন ওর বিয়ে ছিল ঐ দিন ঠিক এই ভাবেই উপহার টা দিয়ে বেরিয়ে আসি। এটা আলাদা করে ভাবিনি… আমার জীবনের ঘটনা বলতে পারেন।হয়তো বোকা বোকা কিন্তু এটাই বাস্তব।


KMDB
– বেশ বেশ।না না এতে বোকা বোকার কিছুই নেই। বাস্তবকে খুব অদ্ভুত ভাবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই ছবিটি বানানোর সময় কোনো মনে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল কি? মানে যা তোমায় বার বার সেই দিনগুলোকে মনে করাবে?

নিরূপ– হ্যাঁ, সে তো থাকবেই। খাওয়া দাওয়া, break এ ফাজলামো। আর যেটা না বললেই না… সুমন কে দিয়ে অভিনয় টা ঠিক ঠাক করানোর জন্য আমাদের পরিশ্রম। আশা করি সেখানে আমরা ১% হলেও সফল।

KMDB– হ্যাঁ, বেশ।তা সুমনের অভিনয়ের ব্যাপারে আরো যদি একটু বলো। কি ধরণের পরিশ্রমের কথা বলছো?

নিরূপ– না আসলে ও অভিনয় টা ভালোই করে, কিন্তু কিছু সমস্যা থাকে সেগুলো মেটানোর চেষ্টা, আর ওর কথা বার্তা। ও হ্যাঁ এটা তো বলাই হয়নি… মজার একটি ঘটনা যেটা না বললেই নয়। Grooming-এর দিন অভির পরে যাওয়া। আর হ্যাঁ, shoot এর শেষে খিচুড়ি খাওয়া।

KMDB– খিচুড়ি? বাঃ বাঃ। ছবিটা মুক্তি পাওয়ার পর কি রকম feed back পেলে? যেটা আশা করেছিলে সেই অনুযায়ী feedback এলো?

নিরূপ– Expectation অনুযায়ী হয়নি, কারণ আমি ভাবি যে এত মানুষ দেখবে। একদিন হাতিবাগান juice এর দোকানে দাঁড়িয়ে কেউ একজন এসে বললো কাঁপিয়ে দিয়েছো। এই রকম ভাবনা এলো কি করে? আরো একটা ব্যাপার হলো ১০দিনে ২০০০ দর্শক… এটা ভাবিনি। আমি খুব খুশি। কিন্তু পরবর্তী কালে যদি কাজের সুযোগ পাই সেটা ২০০০এর জায়গায় যাতে ২০০০০ হয়, এটাকে মাথায় রাখতে হবে। আর হ্যাঁ, আমি ভাবিনি Kolkata Movie Database এর মতো একটা জায়গায় interview দেব। আর কলেজের পাশে দুখী দার চায়ের দোকানে কেউ free তে চা offer করবে, এগুলো ভাবিনি।এছাড়াও বহু মানুষ ভাবতে পারেনি যে নিরূপ দাশগুপ্ত এটা করতে পারবে।

KMDB– শুনে খুব ভালো লাগলো। তোমার মতে award বা accolades এর কতটা গুরুত্ব আছে ছবি বানানোর ক্ষেত্রে? একটা award কি আরো ভালো করে কাজ করার উৎসাহ দেয়?

নিরূপ– হ্যাঁ,একদম। Award পেলে উৎসাহ বাড়ে আর কাজটা আরো ভালো করতে হয়। আর না পেলে আরো উৎসাহ বাড়ে যে একদিন পেতেই হবে এরকম একটা। কিছু ভুল বললে বলবেন । এটা আমার মনে হয়।

KMDB– তোমার এই মন এর কথাই জানতে চাইছিলাম। এতে ভুলের কি আছে? এর পরে তুমি আমাদের কি উপহার দিতে চলেছ?

নিরূপ– এই রে!!! এটা এখন ঠিক করিনি। লেখা লিখি চলছে। আসলে যারা শর্ট ফ্লিম করে তাদের গল্প ভালো হলেও capital পাওয়াটা চাপের হয়ে যায়। তাই ভালো গল্পের ওপর কাজ করার আগে টাকা টা মাথায় কাজ করে। সুতরাং পরবর্তী কাজ টা দুই অঙ্ক-র থেকেও ভালো কিছু উপহার দেব। অন্য স্বাদের কিছু গল্প উপহার দেব।

KMDB– বাঃ, অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম আমরা।একজন ছবি নির্মাতা হিসাবে তুমি এখনকার নতুন independent পরিচালকদের উদ্দ্যেশে কি বলতে চাও? তাদের জন্য তোমার কিছু কথা?

নিরূপ– আমি খুব ই সামান্য মানুষ ।উপদেশ দেওয়ার মতো বা কাউকে মূল্যায়ন করার মতো যোগ্যতা নেই, তাও একটাই কথা… অন্য রকমের কাজ কিন্তু মানুষ নিতে পারে। একটু আলাদা,একটু ভিন্ন স্বাদের কিছু।সেটা দিতে পারলে, তুমিই সেরা।

KMDB– বেশ বেশ। অনেক অনেক ধন্যবাদ নিরূপ।এতটা সময় আমাদের সাথে থাকার জন্য। যাওয়ার আগে যদি KMDB সম্বন্ধে কিছু বলো। আমাদের এগিয়ে চলা নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে।

নিরূপ– KMDB কে আমার ধন্যবাদ জানানোর কথা, কারণ আমার মতো মানুষের জায়গা করে দেওয়ার জন্য। আর তোমরা already toll tax দিয়ে highway তে উঠে পড়েছো। এখন শুধু stearing-টা ধরে রাখার ব্যাপার, আর আপনারা খুব অভিজ্ঞ ।খুব তাড়াতাড়ি লক্ষে পৌঁছতে পারবেন।

KMDB– তাই বুঝি? Honoured to the core ।আমরা তোমার expectation অনুযায়ী এগোনোর পুরোদমে চেষ্টা করবো। আবারো অনেক ধন্যবাদ।এভাবেই পাশে থেকো। শুভ রাত্রি।

নিরূপ-হ্যাঁ, শুভ রাত্রি। জয় গুরু।

Interview Conducted and Blog Edited by Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

Interview transliterated by Aushnik Das (HR Dept, KMDB)

Feeling Loved: An evening with Rajat Saha 

Rajat Saha is a contemporary independent filmmaker from Bengal, who likes to delve deep into the simple. He is an ardent fan of Hrithik Roshan, but he knows the difference between mainstream and independent. An immensely sensible creator of narratives, Rajat is one of our most favorite filmmakers. Here’s what he has to say about his films and experiences.


Rajat Saha

KMDB – Rajat, তোমায় Kolkata Movie Database-এ স্বাগত ।

Rajat-ধন্যবাদ ।

KMDB – #Feeling_Loved  খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। অনেক শুভেচ্ছা। আমাদেরও ছবিটা খুব খুব ভালো লাগছে ।

Rajat – ধন্যবাদ। এর জন্য KMDB কেও অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক Promotion আর Support করেছে।

KMDB – আমরা আপ্লুত। ধন্যবাদ তোমাকে। আমাদের এতোটা বিশ্বাস আর ভরসা করার জন্য। #Feeling_Loved আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে খুব শিগগিরই।

Rajat – দেখা যাক।

KMDB – আমরা বেশ নিশ্চিত। তাহলে আমরা কয়েক বছর পিছিয়ে যাই।ছবি বা পরিচালক দের সাথে এবং সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের যদি কিছু বলো। এই সম্পর্ক কি ভাবে স্থাপিত হল? আজ দাঁড়িয়ে এই সম্পর্কের Status কী?

Rajat –আমার বাড়িতে Cable সংযোগ অনেক পড়ে এসেছিল। আর আমার বাড়ি যেখানে, মানে কাটোয়া তে, প্রেক্ষাগৃহে সে সময় ছায়াছবি অনেক দেরী করেই আসতো। প্রায় প্রকাশ পাওয়ার দু সপ্তাহ পরে। তাই সিনেমা খুব কম দেখা হতো। তবে আমার Superhero সিরিয়াল গুলো খূব ভালো লাগতো। ঘরে বসে নিজেই গল্প বানিয়ে মনে মনে অভিনয় করতাম ওই Superhero সিরিয়াল ভেবে। আস্তে আস্তে সেগুলো বাড়তে থাকলো। মনে হল ব্যাপারটা নিয়ে Seriously ভাবলে কেমন হয়? তো চলে এলাম এই ছবি বানানোর দিকটায়। আগে ভাবতাম আমার কাছে একটা শক্তপোক্ত গল্প আছে, একটা ক্যামেরাও আছে, আর Edit-টা মোটামুটি পারি… তো ছবি বানানো কোনও ব্যাপার নয়। এখন বুঝি ওটার জন্য অনেক পড়াশুনো করতে হয়। তাই এখন শেখার চেষ্টা করছি আর তার সাথে কাজটাও করে যাচ্ছি। চেষ্টা করি সবসময় Fresh কিছু করার। আর Recent Status বলতে বেঙ্গলে অন লাইন ব্যাপারটা গড়ে ওঠেনি। ওটা এবার হাতের মুঠোয় আনার লড়াই চালাবো ।

KMDB – বাঃ, শুনে বেশ ভালো লাগলো।Superhero সিরিয়াল দেখতে দেখতে প্রথম কোন ছবি বানানোর কথা ভেবেছিলে? সেই ছবিটা কি অবশেষে তোমার প্রথম নির্মিত ছবির স্বীকৃতি পায়? 

Rajat – আমার প্রিয় সুপারহিরো ছিল Zorro আর Hatim…আমি প্রতিদিন গল্প বানাতাম যে আমি সময়কে ১০০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছি। আর Hatim আর  Zorro এর মত লড়াই করে সবাইকে বাঁচাচ্ছি।।এসব বানাতে গেলে এখনও অনেক পথ হাঁটতে হবে।

KMDB – হা হা হা। বেশ বেশ। তা তোমার পরিচালিত প্রথম ছবি কোনটি? সেই ছবিটি সম্বন্ধে যদি কিছু বল।

Rajat – Love Breakup Facebook বলে একটা বানিয়েছিলাম। হাসির কথা হল গোটা film-টা একটা shot-এ তুলেছিলাম। এটার চেয়ে amateur কিছু হতে পারে না। কিছু দিন You Tube এ থাকলেও পরে সেটা তুলে নিলাম ওখান থেকে। তারপর O Khuda বলে একটা ছবি বানালাম। প্রথম বার Shot Division করে শুট করলাম। কিন্তু ওটাতেও কিছু অভিনেতারা এতো amateur ছিল যে তুলে দিতে বাধ্য হলাম। তারপর বানিয়েছিলাম Shoot@Night। যেটা আসলে আমাকে প্রথমবার Festival Screening দেয়। তো আসল শুরুটা ওখান থেকেই বলা যেতে পারে ।

KMDB – বেশ, বেশ। Shoot@Night নিয়ে যদি আরও কিছু আমাদের বলো। ছবির গল্প, চরিত্র এবং তোমার অভিজ্ঞতাও।

Rajat – গল্প জানা ছিল, কারণ ওটা O Henry-র লেখা। কিন্তু Script কিছুই ছিল না। বিকেলে ট্রেন ধরলাম। দত্তপুকুর নামলাম। রাত ৯ টার সময় Script লিখলাম। ১০ টায় Shoot-এ বেরোলাম পাশের গলিতে। ২ টো অবধি Shoot করে ফিরে এলাম। ব্যাস একদিনেই সব শেষ ।

KMDB – Interesting!  তা এই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার Shoot এর সময় কোনও এমন ঘটনা ঘটেছিল যা আজও Distinctly মনে পড়ে? কোন গল্পের Adaption ছিল এই ছবিটি?

Rajat – সেরকম কিছুই না। পুরো জায়গাটা শুনশান, ফাঁকা। আমরা চুপচাপ Shoot  করে চলে এসেছিলাম। এটা ‘After 20 Years’ এর Adaptation। শেষটা আমি পরিবর্তন করেছিলাম।

KMDB– বেশ বেশ । এই ছবি টার পর থেকে #Feeling_Loved অবধি তোমার যে Journey টা, সেটার সম্বন্ধে আমাদের ছোট্টো করে কিছু বলবে? 
Rajat – এটা ২০১৩ সালের ঘটনা। আর এখন ২০১৬ সাল। আস্তে আস্তে অনেক কিছুই শিখেছি। গল্প ভাবা বা বলার ধরন, কি ভাবে টিম তৈরি করতে হয়। পড়াশুনো করেছি। তবে আমার সাথে আমার টিমও এখন আগের থেকে mature। আমরা এখন অনায়াসে হেসে খেলে একটা ছবি নামিয়ে দিতে পারি।এখন টিম এ ভালো অভিনেতা আর অভিনেত্রী এসেছে। পুরনো যারা ছিল তারাও ফিরে এসেছে। সব মিলিয়ে এই কটা বছর বেশ ভালোই গেছে। এখন তো সবে শুরু ,দেখি কত দূর কি যেতে পারি ?

KMDB – অনেক দূর যাবে। তোমার দূরদর্শিতা আছে, এবং সেটা তোমার ভাবনাতে প্রকাশ পায়। আর কি কি ছবি বানিয়েছ এই ৩ বছরে? প্রত্যেকটি ছবি সম্বন্ধে যদি সামান্য কিছু বলো।

Rajat – অনেক বানিয়েছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল Just A Girl ,Kala, মোমবাতি আর Good Bye…। Just A Girl ছবিটি amateur ছিল একটু। কিন্তু সেই সময় হাতে কামেরা নিয়ে যেটা পেয়েছি সেটা Stylish ভাবে বানাতে চেয়েছি। Kala ছবিটি একটি Horror thriller ছিল। ওটাতেই প্রথমবার কিছু Visual Effects try করেছিলাম। এর পর মোমবাতি, যেটা একটা competition-এর জন্য মাত্র দু-ঘন্টায় shoot করেছিলাম। তারপর Goodbye, যে ছবিটি আমার কাছে বিশাল দামি, কারণ এই ছবিটি আমায় দুটো award আর একটা identity দেয়। Then #Feeling_Loved… এ ছাড়াও দুটো propaganda video আর একটা Advertisement Competition-এর জন্য video বানিয়েছিলাম।


KMDB
-বাঃ,কয়েক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটা কাজ হাতে নিয়েছ। Good Bye  -ও আমাদের খুব পছন্দের একটি ছবি। তোমার কাছে একটি award-এর গুরুত্ব ঠিক কতটা? একটা award বা national /international accolade কি তোমায় আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়?

Rajat– দেখো, আমি ওভাবে ভাবি না। আমি short film বানাই দুটি কারণে। এক, নিজের portfolio ভালো করার জন্য এবং দুই, আমার film-এর পিছনে ১০ মিনিটে যে MB খরচ করে দেখবে, তাকে এন্টারটেইনমেন্ট দেওয়ার জন্য। Internet-এ মানুষ film তখনই দেখে যখন সে mobile-এ একট relaxed time কাটায়। সেই সময় ভারী ভারী আতেল জিনিস কার ভালো লাগে? তাই আমি content এমন বানাচ্ছি যেটা বাস্তবে আছে। অন্তত আমি সেই দিকটা মাথায় রেখে কাজ করি। আর সেটা যদি ভালো ভাবে execute করে, তো festival এমনি পাবে। নির্দিষ্ট festival কেন্দ্র করে ছবি বানালে আমি You Tube-এ দেখাবো না। এখন festivals-এর থেকেও অনেক বেশি দামী You Tube বা Online আয় করাটা। তাই আমি বেশি ব্যাপারটা ভাবি Online Movie Market এর কথা মাথায় রেখেই।

KMDB-বেশ,বেশ। শুনে ভালো লাগলো। এবারে আমরা #Feeling_Loved এ আসি। এই ছবিটা তোমার ভাবনায় কি ভাবে এবং কখন এলো? তারপর Marketing-এর জন্য journey টা নিয়ে যদি কিছু বলো।

Rajat– এটা আমি একটা ছোট গল্প লিখেছিলাম।বেশ কিছু ম্যাগাজিনের অফিসে পাঠালাম। কেও পাত্তা দিলো না। তাই ভাবলাম এটা নিয়ে একটা short film বানিয়ে ফেলি। আগেও চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলাম। এবারে হয়ে গেলো। তবে আমি এর পুরো কৃতিত্ব আমার ছবির নায়িকা আর DOP কে দেব। আমার নায়িকা আমাকে জোর করেছিল Good Bye ছবি টা করার জন্য। ওটা আমায় অনেক কিছু দিলো। আবার এই ছবিটি করতে আমাকে নিয়মিত বলেছিলো। এবং আমার Cinematographer প্রসেনজিৎ দা-র ফ্রেম না থাকলে আমার ছবির flavour টা ধরানো যেত না।

KMDB
– বাঃ, ছোট গল্প থেকে ছায়াছবি।Interesting। নায়িকা আর সিনেমাটোগ্রাফারের কথা শুনে বেশ ভালো লাগলো। আর তোমার ছবিতে যিনি প্রধান পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ব্যাপারে যদি কিছু বলো।

Rajat– অংশুর সম্বন্ধে কি বলবো। ও অনেক senior। আমি যখন হাফ প্যান্ট পরে স্কুল যেতাম, তখন দেখেছিলাম বন্ধনে এ জিৎ এর ছেলের ভূমিকায়, তাই ও তো ভালো কাজ করবে স্বাভাবিক।আর ওর কাজ দেখে সবাই খুব ভালো বলেছে।
KMDB- হ্যাঁ, সেটা আমরাও বলছি। খুব matured character portrayal। ওনার সাথে কি ভাবে সাক্ষাৎ হলো? উনি কি এক বারেই রাজি হয়েছেন এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য?

Rajat
-আগে থেকেই চেনা ছিল তাই সমস্যা হয়নি। Script শুনেই রাজি হয়ে গেছে ।

KMDB
– বাঃ,বেশ। এতো ভালো response পাচ্ছ।ছবিটা কি এরপরে কোথাও পাঠানোর ইচ্ছা আছে?
Rajat- Festivals এ পাঠাবো কিছু। Online Distributor-রা চাইছে। দেখি ভাবিনি এখনো কিছু।

KMDB– আচ্ছা আচ্ছা। এর পরেও তুমি আমাদের কি উপহার দিতে চলেছ?

Rajat– দুটো গল্প মাথায় আছে। দেখি কোনটা করা হয়। এছাড়া আমার দলের একজন সদস্য তার প্রথম short film বানানোর কথা ভাবছে। এছাড়া আমরা short films-এর সাথে funny spoof section এবং humor comedy section রাখবো। মানে এক কথায় Online Entertainment-এর পথে হাঁটবো। ভাষা টা এখনো ঠিক করিনি হিন্দি রাখা হবে না বাংলা। কারণ You Tube Reach-টা খুব matter করে, আর বাংলায় humor video বানালে মানুষ সেটা enjoy করার জায়গায় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে, সেই ভয় টাও থাকে। দেখা যাক। এগুলোই এখন plan।

KMDB– আচ্ছা সবকটি বেশ ভালো endeavor… অন্যরকম ধাঁচের। অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম।এখন অনেকেই independent flim এর দুনিয়া যে পা রাখছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ বেশ talented। তাদের উদ্দেশ্যে তোমার কিছু কথা?

Rajat-এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না কি? মানে আমি এখনো সেইরকম কিছুই না। আর আমি আমার সিনেমা দিয়ে কাউকে কোনো বার্তা দিইনা, তো এসব না দিলেই তো হয়। যারা ভালো তারা ঠিক এগিয়ে যাবে। বলতে হবে না। তবে হ্যাঁ, একটা ব্যাপার বলতে পারি । কিছু লোক আছে যারা ভালো খারাপ কি বানায় জানিনা, কিন্তু কটা সত্যজিৎ রায় দেখে বা Italian Neorealism বা Hitchcock দেখে একটু বেশি attitude দেখায়। তারা বাকি দের কাজ কে কাজ বলে মনে করে না। আবার কিছু জন আছে যারা Facebook-এ এমন দেখায়, যেন short films বানিয়ে সে mainstream films-এর  সাথে compete করতে যাচ্ছে। এগুলো না হলেই ভালো হয়। কিছু মানুষ আছে যারা জানেন short films বানাতে কি পরিমান কষ্ট পেতে হয়, তাও যেচে ভুলের একটা লম্বা একটা লিস্ট বানিয়ে দেবে। যেমন ধরুন আপনি বলে দিয়েছেন যে আপনার dubbing এর টাকা নেই তাই আপনি মোবাইলে এ dub করেছেন, তাও উনি ভুল ধরে বলবেন যে dubbing এ সমস্যা আছে। এই সব মানুষদের ignore করে আমি নিজের মতো কাজ করে যেতে চাই। কারোর সাহায্য লাগলে আমি আছি। আর festivals-এ অনেকে অনেক কথা বলেন… “আমরা short films নিয়ে এই ভাবি ঐ ভাবি”। আসলে তাদের একটা short এর link পাঠিয়ে দেখার কথা বললে তারা খুলে দেখার ভদ্রতা দেখায় না। তাই আমি অনেক কে দেখেছি frustrated হয়ে যেতে। তাই তাদের জন্য বলতে পারি যে যারা দেখার তারা ঠিক দেখবে। Film-টা You Tube-এ আছে মানে সেটা পাশের বাড়ির মালতা মাসী থেকে কলকাতার Abby বা শিলিগুড়ির রিয়া সবাই দেখবে। তাতে কোন সুপারস্টার actor বা ডিরেক্টর festival-এ কি বলেছিলো, আর আসলে তারা ignore করলো মানে সব শেষ, এটা যেন কেউ না ভাবে।

KMDB
-খুব সুন্দর বললে। অব্যশই তুমি এগিয়ে চলো। আমরা আছি তোমার সাথে। তুমি আমাদের এতটা সময় দিলে, তার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। এভাবেই পাশে থেকো। যাওয়ার আগে যদি Kolkata Movie Database সম্বন্ধে কিছু বলো। তুমি আমাদের সাথে অনেকদিন আছো। আমাদের আর কি কি ভাবে এগোনো উচিৎ বলে তোমার ধারণা?


Rajat
– কি বলবো মানে Kolkata Movie Database আছে বলে কত মানুষের যে উপকার হয় সেটা আমি এখন বুঝি। ধন্যবাদ। তোমরা এমনিতেও Short Film Maker-দের জন্য বিশাল। এরপর কি কি ভাবে এগোবে সেটা তোমরা ভালো জানো। যেদিন KMDB ব্লগ থেকে অডিও ভিডিও হয়ে যাবে সেদিন আশা করি আমিও join করে যাবো KMDB তে।
KMDB- হা হা,বেশ বেশ। Honoured। আমরা অবশ্য লেখার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছি।তোমাদের সবার জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। যখন ইচ্ছা হবে চলে এসো আমাদের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হতে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আবার।খুব ভালো লাগলো।

Rajat– ধন্যবাদ Kolkata Movie Database কে।

Interview conducted and Blog Edited by: Abhirup Sen (Editor-in-Chief, KMDB)

Blog transliterated by Aushnik Das (HR Dept and Writer, KMDB)